বিএলওদের কাজে অতিরিক্ত চাপ, ২৫ নভেম্বরের মধ্যে ডিজিটাইজেশন সম্পন্নের নির্দেশ
পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন কমিশনের নতুন নির্দেশনায় বিএলওদের ওপর প্রবল চাপ তৈরি হয়েছে। আগে বলা হয়েছিল, ৪ ডিসেম্বরের মধ্যে সব এসআইআর ফর্ম পূরণ ও জমা দিতে হবে, কিন্তু হঠাৎ করে সময় পরিবর্তন করে ২৫ নভেম্বরের মধ্যেই কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জাতীয় নির্বাচন কমিশন রাজ্যের সকল জেলাশাসককে এই নির্দেশ দিয়েছেন।
বিএলওদের বক্তব্য, একটি বুথে প্রায় চোদ্দজন ভোটার থাকায় নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা প্রায় অসম্ভব। তবুও রাত-দিন এক করে কাজ করছেন তাঁরা। তবে সময় কমিয়ে দেওয়ায় কাজের চাপ আরও বেড়েছে। অনেক বিএলও জানিয়েছেন, কমিশনের অ্যাপে তথ্য আপলোড করতে গেলে সার্ভার সমস্যার কারণে বারবার ব্যর্থতা হয়, যা কাজের গতি কমাচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিএলও জানান, সন্ধ্যা পর্যন্ত ফর্ম সংগ্রহ করে রাতভর আপলোড করছেন। “৪ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করা অসম্ভব, তার আগেই সময় কমানো হয়েছে, এতে মানসিক চাপ বাড়ছে,” তিনি বলেন। তিনি আরও জানান, এত চাপের মধ্যে মানসিক শান্তি নেই, স্ত্রী ও কন্যাকেও সহায়তা নিতে হচ্ছে।
এই অতিরিক্ত চাপের প্রভাব ইতোমধ্যেই পরিলক্ষিত হয়েছে। গত শনিবার নদিয়ার কৃষ্ণনগরের ষষ্ঠীতলায় এক বিএলও গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তাঁর ঘর থেকে উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটে তিনি নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করেছেন অতিরিক্ত কাজের চাপের জন্য। নোটে লেখা ছিল, “বিএলও-র কাজ তুলতে না পারলে প্রশাসনিক চাপ আসবে, যা আমি সামলাতে পারছি না।”
নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তে বিএলওদের নিরাপত্তার বিষয়েও সংশ্লিষ্ট স্থানীয় থানা দায়িত্ব নিতে পারে বলে জানা গেছে।
ছবি: সংগৃহীত