Tranding
মধ্যপ্রাচ্য / November 21, 2025

ইসরায়েলি হামলায় গাজায় পাঁচজন নিহত, বাড়ছে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের আশঙ্কা

গাজা উপত্যকায় নতুন করে ইসরায়েলি বিমান হামলায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে এক বছরের একটি শিশু রয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরে দক্ষিণ গাজায় এই হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে গাজার সিভিল ডিফেন্স বিভাগ। বুধবার থেকে শুরু হওয়া ধারাবাহিক হামলায় মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩২। ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাস—উভয় পক্ষই যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের জন্য একে–অপরকে দায়ী করছে।

গত ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতির পর বুধবার ছিল সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী দিনগুলোর একটি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত পরিকল্পনার ভিত্তিতে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার সতর্ক করে বলেছে, ইসরায়েলের ধারাবাহিক বিমান হামলা “গুরুতর উত্তেজনা” সৃষ্টি করেছে, যা স্থিতিশীল পরিস্থিতিকে বিপন্ন করতে পারে।

একই সময়ে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননেও হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, হামলাগুলো ছিল হিজবুল্লাহর ঘাঁটি লক্ষ্য করে, যারা যুদ্ধবিরতির পর নিজেদের সামরিক শক্তি পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে।

দক্ষিণ গাজায় যে এলাকায় হামলা হয়েছে, সেটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির অধীনে এখনও ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্স পাঁচজনের মৃতদেহ গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। নিহতদের একজনের বয়স মাত্র এক বছর।

একজন শোকাহত বাবা, সাবরি আবু সেবিত, যিনি নিজের ছেলে ও নাতনিকে হারিয়েছেন, বলেন—

“আমাদের ঘুমের ভেতরেই বোমা ফেলেছে। আমরা নিরীহ মানুষ; যুদ্ধ চাই না।”

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলেছে, তারা “সন্ত্রাসী অবকাঠামো ভাঙতে” এই হামলা চালিয়েছে এবং বেসামরিক হতাহতের ব্যাপারে তারা অবগত নয়। সেনাবাহিনীর দাবি—এটি তাদের নিয়মিত অপারেশনেরই অংশ।

তবে মার্কিন এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে আগেই ইসরায়েল এই হামলার বিষয়ে অবহিত করেছে।

“যুদ্ধ কি ফিরে আসছে?”—গাজার মানুষের আতঙ্ক

হঠাৎ করে হামলা বেড়ে যাওয়ায় গাজার সাধারণ মানুষ আবারও ভয় পাচ্ছেন যুদ্ধ ফিরে আসার আশঙ্কায়। পূর্ব গাজার তফফাহ এলাকার বাসিন্দা লিনা ক্রাজ বলেন—

“আমার মেয়ে সারা রাত জিজ্ঞেস করেছে—যুদ্ধ কি আবার শুরু হলো?”

যুদ্ধের সময় ঘরছাড়া মোহাম্মদ হাম্দোনা মনে করেন, যুদ্ধ কখনই শেষ হয়নি।

“মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে, কিন্তু দুর্ভোগ একই আছে। এখনো আমরা তাঁবুতে; পুরো শহর ধ্বংসস্তূপ।”

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, বুধবারের হামলা চালানো হয়েছে হামাসের সদস্যরা খান ইউনিসে সেনাদের দিকে গুলিবর্ষণ করেছে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে।

অন্যদিকে হামাস অভিযোগ করেছে, ইসরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করছে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও ইসরায়েলের হামলাকে “নৃশংস ও বিপজ্জনক” বলে নিন্দা করেছে।

গুরুতর মানবিক সংকট

৭ অক্টোবর ২০২৩–এর হামলার পর থেকে ইসরায়েলি পাল্টা হামলায় এখন পর্যন্ত ৬৯ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু—এ তথ্য জাতিসংঘও বিশ্বাসযোগ্য বলে উল্লেখ করেছে।

গাজায় ধ্বংসযজ্ঞের কারণে মানবিক পরিস্থিতি ভয়াবহ মাত্রায় পৌঁছেছে। জাতিসংঘের হিসেবে গাজার কিছু এলাকায় ইতোমধ্যেই দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করা হয়েছে।

গাজায় নতুন করে সহিংসতা বৃদ্ধির ফলে আবারও আশঙ্কা দেখা দিয়েছে—যুদ্ধবিরতি ভেঙে পূর্ণাঙ্গ সংঘাত কি আবার শুরু হতে যাচ্ছে?

Trusted source for latest breaking news, headlines, and updates from around the world.

© Your Bango Darpan News. All Rights Reserved.