যুক্তরাষ্ট্রে পাঁচ বছরের শিশুকে বহিষ্কার থেকে সাময়িক সুরক্ষা, অভিবাসন অভিযানে উত্তেজনা
যুক্তরাষ্ট্রে এক ফেডারেল বিচারক পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে সাময়িকভাবে দেশছাড়া করার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। গত সপ্তাহে অভিবাসন ও শুল্ক দপ্তরের (আইসিই) অভিযানে শিশুটিকে আটক করার ঘটনায় দেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর এই সিদ্ধান্ত আসে।
শিশুটির নাম লিয়াম কনেহো রামোস। সে ও তার বাবা আদ্রিয়ান কনেহো আরিয়াস ইকুয়েডরের নাগরিক এবং যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়প্রার্থী। গত ২০ জানুয়ারি মিনিয়াপোলিসে আইসিই কর্মকর্তারা তাদের আটক করেন। অভিযানের সময় বাবাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলাকালে শিশুটির আতঙ্কিত অবস্থার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
টেক্সাসের সান অ্যান্টোনিওতে দেওয়া রায়ে বিচারক ফ্রেড ব্যারি বলেন, আদালতের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত শিশুটি ও তার বাবাকে কোথাও স্থানান্তর বা বহিষ্কার করা যাবে না। বর্তমানে তারা তাদের আটকাদেশের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালাচ্ছেন।
এদিকে, শিশুটি যে সরকারি স্কুলে পড়ত, সেই স্কুল জেলার এক কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন—অভিবাসন কর্মকর্তারা পরিবারের অন্য সদস্যদের ধরতে শিশুটিকে ‘প্রলোভন’ হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। যদিও আইসিই প্রধান মার্কাস চার্লস দাবি করেছেন, তার অধীনস্থ কর্মকর্তারা শিশুটিকে পরিবারের সঙ্গে পুনরায় যুক্ত করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন।
অন্যদিকে, একই সময়ে ইকুয়েডর সরকার মিনিয়াপোলিসে তাদের কনস্যুলেটে আইসিই সদস্যদের প্রবেশচেষ্টার ঘটনায় তীব্র আপত্তি জানিয়েছে। ইকুয়েডরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, কনস্যুলেটের ভেতরে থাকা নাগরিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে ওই কর্মকর্তাকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। এ ঘটনার প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের কুইটো দূতাবাসে আনুষ্ঠানিক চিঠিও পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি মাসে মিনিয়াপোলিসে অভিবাসনবিরোধী অভিযানের সময় ফেডারেল বাহিনীর গুলিতে দ্বিতীয় একজন মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায়ও জনমনে ক্ষোভ বিরাজ করছে। পরিস্থিতি শান্ত করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সীমান্ত আইন প্রয়োগ সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠান এবং উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানান।