নাইজারের “মৃত্যু ত্রিভুজ” থেকে রাষ্ট্রপতির বার্তা: সন্ত্রাসের কাছে মাথা নত করা হবে
নাইজারের সামরিক কাউন্সিলের প্রধান, ফ্র্যাঙ্ক আব্দুল রহমান তিয়ানি শনিবার “মৃত্যু ত্রিভুজ” অঞ্চলের তিলাবেরি জেলা পরিদর্শন শুরু করেছেন। এই অঞ্চলটি নিয়জার, মালি ও বুরকিনা ফাসোর সীমান্তবর্তী এবং সন্ত্রাসী সংগঠন আইএসের সক্রিয় ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।
পরিদর্শনের সময় তিয়ানি স্থানীয় জনগণকে সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “সশস্ত্র ও নিরাপত্তা বাহিনীর পাশে দাঁড়িয়ে আমাদের দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং চলমান চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে হবে।”
তিলাবেরি পশ্চিম নিয়জারের একটি প্রদেশ, যা আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলের সবচেয়ে বিপজ্জনক এলাকা হিসেবে পরিচিত। গত এক দশক ধরে এই অঞ্চলে আইএসের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সন্ত্রাসী হামলার মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় তিয়ানি নিজে সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিলাবেরি পৌঁছেছেন।
রাষ্ট্রপতির কনভয়ে গ্রামগুলি পরিদর্শন করেছে এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিয়ানি তাঁর ভাষণে বলেছেন, “নাইজার কখনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কাছে মাথা নত করবে না। আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী সাহস ও ত্যাগের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে এবং এই কাজ অব্যাহত রাখবে।”
তিনি আরও বলেন, “প্রতি নাগরিককেই এই যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। জনগণের সতর্কতা ও সহায়তা অপরিহার্য। আপনাদের সহযোগিতা ছাড়া শত্রুকে পরাজিত করা সম্ভব নয়।”
তিয়ানি নাগরিকদের দেশীয় সামরিক ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য “জাতীয় সংহতি তহবিলে” দান করতে উৎসাহিত করেছেন। তিনি বলেন, “যেকোনো অবদান—even ছোট—মিলিয়ে প্রদেশ ও দেশের নিরাপত্তা ও উন্নয়নে বিপুল প্রভাব ফেলতে পারে।”
স্থানীয় প্রশাসনও এই পরিদর্শনকে “প্রতীকী” হিসেবে বর্ণনা করেছে, যা এলাকার নিরাপত্তা ও শান্তি পুনঃস্থাপনের সরকারী প্রতিশ্রুতির প্রমাণ। পরিদর্শনের সময় নায়জারের সেনাবাহিনী দুইটি গাড়িতে থাকা বিস্ফোরক ও জ্বালানী পদার্থ আটক করেছে, যা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর উদ্দেশ্যে পাঠানো হচ্ছিল।
এই অভিযান “নায়া” নামে পরিচিত সামরিক অপারেশনের অংশ, যার লক্ষ্য সীমান্তবর্তী এলাকায় সন্ত্রাসীদের লজিস্টিক নেটওয়ার্ক ধ্বংস করা। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত সামগ্রীতে রয়েছে ৪৫টি গ্যাস সিলিন্ডার, ১৫০ লিটার পেট্রোল, ১০১টি বিস্ফোরক ডিভাইস ও বিস্ফোরক তৈরির উপকরণ।
এই অভিযান দেশব্যাপী নিরাপত্তা জোরদারের অংশ এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সন্ত্রাসী কার্যক্রম প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।