সেকুলার প্রভাব থেকে আত্মহত্যা পর্যন্ত — সা-রাহ্ হিজা-যীর জীবনের করুণ সমাপ্তি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রতিবেদন:
মিশরের এক সময়ের হিজাব পরিহিতা, সুন্দরী ও মেধাবী তরুণী সা-রাহ্ হিজা-যী— ধর্মনিরপেক্ষ চিন্তাধারার প্রভাবে জীবনের মোড় ঘুরিয়ে ফেলেছিলেন। শেষপর্যন্ত সেই পথই তাকে নিয়ে যায় গভীর অন্ধকারে।
ঘটনার সূত্রপাত মিশরের পরিচিত ধর্মনিরপেক্ষ লেখক সাইয়্যিদ আল্ ক্বিমানী-এর এক সম্মেলনে। সেখানে সেকুলারিজম নিয়ে বক্তৃতা চলাকালীন তিনি হিজাব প্রসঙ্গও তুলেছিলেন। তাঁর বক্তব্যে গভীরভাবে প্রভাবিত হয়ে সা-রাহ্ তৎক্ষণাৎ নিজের হিজাব খুলে ফেলেন। পরবর্তী সম্মেলনগুলোতে তিনি হিজাব ছাড়াই উপস্থিত হন।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ধর্মনিরপেক্ষতা ও নাস্তিকতা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও প্রকাশ শুরু করেন সা-রাহ্। ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য ও প্রচারের অভিযোগে মিশরীয় কর্তৃপক্ষ তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে।
এরপর ধর্মনিরপেক্ষ মহল ও কিছু পশ্চিমা মানবাধিকার সংগঠন "আমরা সবাই সা-রাহ্ হিজা-যী"— এই স্লোগানে মুক্তির দাবিতে প্রচারণা শুরু করে। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে অবশেষে তার মুক্তি ঘটে।
মুক্তির পর সা-রাহ্-র সাথে সাক্ষাৎ করেন সাইয়্যিদ আল্ ক্বিমানী। তিনি তাকে বলেন, “এই দেশ ইসলামিক, এখানে তোমার মত প্রকাশের কোনো স্বাধীনতা নেই। ইউরোপে যাও, সেখানে স্বাধীনভাবে তোমার মতবাদ প্রচার করো।”
পরামর্শ অনুযায়ী সা-রাহ্ ইউরোপে পাড়ি জমান। কিন্তু সেখানকার বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। অধিকাংশ ইউরোপীয়ই ছিলেন নাস্তিক বা মুসলিম; ধর্মনিরপেক্ষতা বা নাস্তিকতার প্রচারে তারা আগ্রহ দেখাননি। হতাশ সা-রাহ্ আবার ক্বিমানীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
তখন ক্বিমানী তাকে পরামর্শ দেন সমকামিতা ও লিঙ্গস্বাধীনতা নিয়ে কাজ করতে। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি একটি ফরাসি সংস্থার সঙ্গে পাঁচ বছরের চুক্তি করেন, যার উদ্দেশ্য ছিল আরব সমাজে সমকামী ধারণা প্রচার।
কিন্তু কয়েক বছর পরই ক্রমবর্ধমান চাপ ও মানসিক যন্ত্রণায় সা-রাহ্ বিষণ্ণতায় (Depression) ভুগতে শুরু করেন। তিনি বিশ্রাম চাইলেও সংস্থা তা প্রত্যাখ্যান করে। প্রতিদিন লাইভে অংশ নেওয়ার বাধ্যবাধকতা তাকে আরও ক্লান্ত করে তোলে।
শেষপর্যন্ত একদিন নিজের ঘরের ছাদে দড়ি বেঁধে আত্মহত্যা করেন সা-রাহ্ হিজা-যী। মৃত্যুর আগে রেখে যান একটি ছোট্ট চিঠি—
“আমি নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছি, কিন্তু পারছি না। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে।”
ফ্রান্সে তার মৃত্যুর পর প্রশ্ন ওঠে— ধর্মীয় রীতিতে জানাজা হবে কি না। তদন্তে জানা যায়, তিনি জীবনের শেষ পর্যায়ে নাস্তিক হয়েছিলেন। ফলে মুসলিম প্রথা অনুযায়ী জানাজা না পড়ে, তার দেহ দাহ করা হয়।
অন্যদিকে, যিনি একসময় তার জীবনের মোড় ঘুরিয়েছিলেন সেই লেখক সাইয়্যিদ আল্ ক্বিমানী জীবনের শেষ দিকে দৃষ্টিশক্তি হারান। মৃত্যুকালে তার জানাজায় উপস্থিত ছিলেন মাত্র সাতজন মানুষ।
ঘটনাটি আজও মধ্যপ্রাচ্যের ধর্মীয় ও সামাজিক মহলে গভীর আলোচনার বিষয়।
কুরআনের বাণী স্মরণযোগ্য:
“যে আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার জীবন হবে সংকীর্ণ, আর কিয়ামতের দিনে আমি তাকে অন্ধ অবস্থায় উত্থিত করব।”
— [সূরা ত্ব-হা ২০:১২৪-১২৬]
উপসংহার:
সা-রাহ্ হিজা-যীর জীবন এক করুণ উদাহরণ— যেখানে আত্মপরিচয় হারানো, অন্ধ অনুসরণ ও মানসিক শূন্যতা একত্রে এক তরুণীর সমাপ্তি টেনে দেয়। আল্লাহ তাআলা যেন আমাদের সকলকে সঠিক পথে অটল রাখেন এবং উত্তম পরিণতি দান করেন।
— প্রতিবেদন: আলোক সংবাদ আন্তর্জাতিক বিভাগ