Tranding

পল্লীবধূ থেকে জগজ্জননী: মা সারদার বর্ণময় জীবনের এক অধ্যায়

শ্রীশ্রী মা সারদা দেবী—একদিকে লাজুক পল্লীবধূ, অন্যদিকে অনন্য তেজস্বিনী। তাঁর চরিত্রে দয়া, ধৈর্য ও বিশ্বাসের সঙ্গে প্রকাশ পায় অতুলনীয় সাহস।

জয়রামবাটি থেকে বিষ্ণুপুর পর্যন্ত একাকী জঙ্গলপথে হাঁটার সময় দস্যুদের মুখোমুখি হয়েছিলেন মা। সাধারণ মানুষ যেখানে আতঙ্কে কেঁপে উঠত, সেখানে তিনি শান্ত ও স্থির কণ্ঠে বলেছিলেন—
“বাবা, আমাকে যেতে হবে বিষ্ণুপুর। তোমার জামাইয়ের কাছে পৌঁছতে হবে।”

মায়ের সেই অচঞ্চল শান্ত রূপে দস্যুদলপতি দর্শন পান স্বয়ং মাতৃশক্তির। মুহূর্তেই তাঁর হৃদয়ে জাগে ভক্তি। খুনোখুনির পেশা ছেড়ে তারা প্রতিজ্ঞা করে—আজ থেকে এই জীবন ত্যাগ। যেন রত্নাকর দস্যুর বাল্মিকিতে রূপান্তর!

মাকে নিজেদের ঘরে নিয়ে গিয়ে দম্পতি তাঁর ক্ষতবিক্ষত পদ সেবা করেন, আহার দেন অতি সাধারণ মুড়ি ও মিছরি। সেই পরিবারই নয়, সমগ্র গ্রাম মায়ের ভক্ত হয়ে ওঠে। এরপর একে একে বহু গ্রাম মায়ের শিষ্যে রূপান্তরিত হয়।

শোনা যায়, মা যখন জয়রামবাটি থেকে বিষ্ণুপুর যেতেন, আশেপাশের বহু গ্রামের মানুষ তাঁকে গরুর গাড়িতে বা পদযাত্রায় গড় করে নিয়ে যেতেন। বাঁকুড়ার লালমাটির পথে মায়ের পদধূলিতে পবিত্র হয়ে উঠত জনপদ।

মা সারদার জীবনে প্রতিফলিত হয় শান্তি, স্থিরতা, ভক্তি ও পরম বিশ্বাস। তাই তিনি আজও আমাদের অন্তরে, সংসারে, কর্মে ও প্রতিটি পদক্ষেপে বিরাজমান।
শত সহস্র কোটি প্রণাম মায়ের চরণে।

Trusted source for latest breaking news, headlines, and updates from around the world.

© Your Bango Darpan News. All Rights Reserved.