গ্লোবাল সামুদ ফ্লোটিলা: মানবতার জন্য সমুদ্রযাত্রা আর আরব বিশ্বের নীরবতা !!!
বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা ৪৪ জন নির্ভীক মানুষ যেন এক মহাসাগরীয় অভিযানে নেমেছেন। তারা জানেন, সামান্য একটি ছোট্ট জাহাজে ভর করে সমুদ্রপথে গাজা উপকূলে পৌঁছানো মানে মৃত্যুকে হাতে নিয়ে যাত্রা করা। তবু ফিলিস্তিনের দুর্দশাগ্রস্ত মানুষদের পাশে দাঁড়াতে এই ঝুঁকিই তারা বেছে নিয়েছেন। খাদ্য, ওষুধ ও জরুরি ত্রাণসামগ্রীতে বোঝাই নৌযানগুলো নিয়ে এগোতেই পুরো বিশ্ব তাকিয়ে রইল বিস্ময়ে।
ইসরায়েলি সেনারা সমুদ্রের মাঝেই তাদের ঘিরে ফেলেছে। একে একে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে তাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা, যাতে বাইরের পৃথিবীর সঙ্গে কোনো খবর আদানপ্রদান না হয়। ড্রোন থেকে হামলার ভয় দেখিয়ে নৌকোর গতিপথ থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে অভিযাত্রীদের নিজ নিজ দেশে শঙ্কার আবহ তৈরি হয়েছে, সরকারগুলো উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে তাদের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে। তবু যাত্রীরা গণমাধ্যমের সামনে দাঁড়িয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন — যারা আজ ফিলিস্তিনের নিরীহ মানুষকে হত্যা করছে, যারা শিশু-মহিলাদের রক্তে সমুদ্র রাঙিয়ে তুলছে, তাদের কাছ থেকে মানবিক আচরণ আশা করা বোকামি। আমরা জানি আমাদের গন্তব্য মৃত্যু হতে পারে, তবু আমরা ফিরব না, কারণ ফিলিস্তিন আজ আমাদের বিবেকের পরীক্ষা নিচ্ছে।
এই বহুজাতিক নৌবহর, যাকে বলা হচ্ছে গ্লোবাল সামুদ ফ্লোটিলা, কেবল কিছু সাধারণ মানুষের উদ্যোগ নয়। এখানে রয়েছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিকিৎসক, সমাজসেবী, শিল্পী, নাট্যকার, সাংস্কৃতিক কর্মী— বিভিন্ন পেশার মানুষ, যারা মানবিক মূল্যবোধকে সর্বোচ্চ আসনে বসিয়েছেন। তাদের একটাই লক্ষ্য: ইসরায়েলের আরোপিত অবরোধ ভেঙে গাজার মানুষের কাছে পৌঁছানো। 2 অক্টোবর তাই শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নয়, সমগ্র বিশ্বের জন্য এক উত্তেজনাকর ও ঐতিহাসিক দিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সবচেয়ে বিস্ময়ের ব্যাপার হলো, এদের বড় একটি অংশ মুসলিম নন। ধর্মীয় কোনো বাধ্যবাধকতা নয়, কেবলমাত্র মানবতার ডাকেই তারা জীবন বাজি রেখেছেন। অন্যদিকে আরব বিশ্বের অনেক প্রভাবশালী নেতা এখনো চুপচাপ। তারা জানেন, সরাসরি যুদ্ধ শুরু করা সম্ভব নয়, কিন্তু অন্তত গর্জে ওঠা— বিশ্বকে জানানো যে তারা ফিলিস্তিনের পাশে আছে— সেটাও তাদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত। অথচ দেখা যাচ্ছে তারা নিজেদের ক্ষমতা, নিরাপত্তা আর কূটনৈতিক অবস্থান আঁকড়ে ধরে বসে আছেন।
এই বৈপরীত্যই আজ বিশ্বকে আরও বড় এক প্রশ্নের সামনে দাঁড় করিয়েছে— সত্যিকারের সাহস দেখাচ্ছে কারা? যারা সমুদ্রের ঢেউ পেরিয়ে মৃত্যু ডেকে আনছে, নাকি যারা ক্ষমতার সিংহাসনে বসে থেকেও প্রতিবাদের আওয়াজ সেইভাবে তুলতে পারছে না?