নিউইয়র্কের নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মমদানি ও ট্রাম্পের বৈঠক ঘিরে আগ্রহ
নিউইয়র্কের নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মমদানি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর নির্ধারিত সাক্ষাৎকে ঘিরে তিনি পুরোপুরি প্রস্তুত। শুক্রবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বৈঠকে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোই হবে আলোচনার প্রধান লক্ষ্য বলে তিনি জানান।
ট্রাম্প অতীতে উগান্ডায় জন্ম নেওয়া মমদানিকে “কমিউনিস্ট” বলে আক্রমণ করেছিলেন এবং তাঁকে দেশ থেকে বহিষ্কারের হুমকিও দিয়েছিলেন। তবে মমদানি বলেন, নিউইয়র্কবাসীর জীবনযাত্রা সহজ করতে তিনি যেকোনো পক্ষের সঙ্গেই কাজ করতে প্রস্তুত।
তিনি উল্লেখ করেন, নিউইয়র্কের বিপুলসংখ্যক ভোটার জীবনযাত্রার ব্যয়সহ নানা ইস্যুতে ট্রাম্প এবং তাঁকে সমর্থন করেছেন। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের অন্য যেকোনো শহরের তুলনায় এখানে ভাড়া, খাদ্যপণ্যসহ প্রাথমিক প্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্য অনেক বেশি।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মমদানি নিজেকে এমন একজন নেতা হিসেবে তুলে ধরেছেন, যিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ক্ষমতা বাড়ানোর প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন এবং ফেডারেল নীতির ফলে ক্ষতিগ্রস্ত শহরগুলোর পক্ষে কথা বলেন।
তিনি বলেন, “জীবনযাত্রার ব্যয়ের বর্তমান জাতীয় সংকট আমাদের আলোচনাকে আরও জরুরি করে তুলেছে। নিউইয়র্কসহ বহু শহর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে সংগ্রাম করছে।”
মমদানির দল জানায়, হোয়াইট হাউসের সঙ্গে বৈঠকের সময় ঠিক করতে তারা ইতিমধ্যেই যোগাযোগ করেছে। যদিও ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর বহু মতপার্থক্য রয়েছে, তবু নিউইয়র্কবাসীর স্বার্থেই তিনি কাজ করে যেতে চান।
প্রথম দক্ষিণ-এশীয় বংশোদ্ভূত হিসেবে মেয়র নির্বাচিত হওয়া এবং ১৯৬৯ সালের পর নিউইয়র্কে এক মিলিয়নের বেশি ভোট পাওয়া প্রথম প্রার্থী মমদানি নির্বাচনী প্রচারে সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন, শিশু–সেবা এবং শহরের বাসে বিনা ভাড়ার যাতায়াতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে এসব বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সংশয় দেখা দিয়েছে।
অন্যদিকে, অবৈধ অভিবাসন কমাতে জোর দিচ্ছেন ট্রাম্প। তিনি মমদানির দক্ষিণ–এশীয় পরিচয়কে ব্যঙ্গ করে মন্তব্য করেন এবং নিউইয়র্কে ফেডারেল তহবিল কমিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।
এর আগেও হোয়াইট হাউসের বৈঠকে ট্রাম্প তাঁর অপছন্দের বিদেশি নেতাদের প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছেন। তাই মমদানির সঙ্গে আসন্ন বৈঠককেও অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছেন।
চলমান রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও নিউইয়র্কের নতুন মেয়র ও প্রেসিডেন্টের এই বৈঠক ঘিরে প্রত্যাশা–উদ্বেগ দু’টিই দেখা যাচ্ছে।