নাইজেরিয়ায় ক্যাথলিক স্কুলে বন্দুকধারীদের হামলা: ৩০০–এর বেশি শিক্ষার্থী ও শিক্ষক অপহৃত
নাইজেরিয়ার মধ্যাঞ্চলে একটি ক্যাথলিক স্কুলে বন্দুকধারীদের ব্যাপক হামলায় ৩০০–এর বেশি শিক্ষার্থী ও শিক্ষককে অপহরণ করা হয়েছে। শুক্রবার ভোরে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় নতুন হিসাব প্রকাশ করেছে দেশটির একটি খ্রিস্টান সংগঠন। এক সপ্তাহের মধ্যে দেশটিতে এটি দ্বিতীয় বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান–অপহরণের ঘটনা।
খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশন অব নাইজেরিয়া জানায়, বিস্তারিত যাচাই–বাছাইয়ের পর দেখা গেছে, সেন্ট মেরি ক্যাথলিক প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি স্কুল থেকে মোট ৩০৩ জন শিক্ষার্থী এবং ১২ জন শিক্ষককে অপহরণ করা হয়েছে।
নাইজারের ওই অঞ্চলে এ হামলা ঘটে মাত্র কয়েক দিন পর, যখন সোমবার উত্তর–পশ্চিমাঞ্চলীয় কেবি রাজ্যের একটি স্কুল থেকে ২৫ জন ছাত্রিকে অপহরণ করেছিল আরেকদল সশস্ত্র হামলাকারী।
নাইজেরিয়ায় মুক্তিপণের জন্য অপহরণ একটি দীর্ঘদিনের সমস্যা। ২০১৪ সালে বর্নো রাজ্যের চিবক শহরে প্রায় ৩০০ ছাত্রিকে অপহরণের পর থেকে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যায়। দেশটির বৃহৎ জনসংখ্যার অঞ্চলে নিরাপত্তাহীনতা এখন বড় উদ্বেগে পরিণত হয়েছে।
সংগঠনটি আরও জানায়, হামলার সময় কিছু শিক্ষার্থী পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। জাতীয় ছাত্রসংঘের মুখপাত্র ড্যানিয়েল আটরি জানান, অপহৃতদের মধ্যে ছেলে ও মেয়ে উভয় শিক্ষার্থী রয়েছে।
এদিকে, রাজ্য সরকার এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ভুক্তভোগীর সংখ্যা ঘোষণা করেনি। তবে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে নাইজার রাজ্যের সব আবাসিক স্কুল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্কুলটি সরকারের অনুমতি ছাড়াই একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করেছিল, ফলে শিক্ষার্থী ও কর্মীরা অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকিতে পড়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, অপহৃতদের খুঁজে বের করতে বনাঞ্চলে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। জাতিসংঘের এক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, অপহৃতদের একটি বড় অংশকে কাদুনা রাজ্যের বারনিন গুয়ারি বনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যেখানে ‘আনসারু’–সংগঠনের সঙ্গে জড়িত একাধিক সশস্ত্র গ্রুপ সক্রিয়।
ঘটনার পর নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা টিনুবু তাঁর সব বিদেশ সফর বাতিল করেছেন এবং দেশজুড়ে নিরাপত্তা বাহিনীকে উচ্চ সতর্কতায় থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।
এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই, মঙ্গলবার নাইজেরিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় কওয়ারা রাজ্যের একটি গির্জায় বন্দুকধারীদের হামলায় দু'জন নিহত হন।