রাফাহর সুড়ঙ্গে মাসের পর মাস লুকিয়ে ছিলেন হামাস যোদ্ধারা: ইসরায়েলি অভিযানে রহস্য উন্মোচন
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ধারাবাহিক ঘোষণা—রাফাহ শহরের ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গে ‘আল কাসাম ব্রিগেড’-এর বহু সদস্যকে হত্যা ও আটক করার ঘটনাগুলো—নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, কিভাবে এতদিন ধরে এসব যোদ্ধা শহর দখলের পরও টিকে ছিলেন এবং কীভাবে তারা দীর্ঘ সময় গোপনে অবস্থান করেছিলেন।
২০২৪ সালের মে মাসে ইসরায়েল রাফাহে স্থল অভিযান শুরু করে এবং ধীরে ধীরে পুরো শহর দখলে নেয়। কিন্তু এর মধ্যেও প্রায় আট মাস ধরে নানা সুড়ঙ্গ ও লুকানো ঘাঁটিতে অবস্থান করছিলেন কাসাম ব্রিগেডের বিশেষ যোদ্ধারা।
৮ মাস ধরে সুড়ঙ্গ–ভিত্তিক কৌশল
হামাসের মাঠ পর্যায়ের সূত্র জানায়, যোদ্ধারা প্রায় গোটা যুদ্ধই কাটিয়েছেন ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গে। মাঝে কয়েক দফা তারা বাইরে উঠে আক্রমণ করেছেন, তারপর আবার সুড়ঙ্গে ফিরে গেছেন।
২০২৩ সালের নভেম্বরের সাত দিনের যুদ্ধবিরতির সময় তারা অল্প সময়ের জন্য বাইরে বের হয়েছিলেন। পরে জানুয়ারির যুদ্ধবিরতিতেও তারা খান ইউনুস পর্যন্ত পৌঁছান এবং কিছু ইসরায়েলি বন্দি হস্তান্তরে ভূমিকা রাখেন—যার মধ্যে আফ্রাহাম মেনগিস্তোও ছিলেন।
ইসরায়েলি বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতিসহ ধারাবাহিক হামলা
মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত তারা সুড়ঙ্গে লুকিয়ে থেকেও ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর একাধিক হামলা চালিয়েছে। ‘কাসাম ব্রিগেড’ এই ধারাবাহিক হামলার নাম দেয় “আবওয়াবুল জাহিম” (নরকের দরজা)। এসব হামলায় কমপক্ষে ৬ ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছে।
খাদ্য–পানির যোগান: কীভাবে বেঁচেছিলেন তারা?
সূত্রগুলোর মতে, সুড়ঙ্গগুলোতে আগে থেকেই কিছু খাদ্য ও পানির মজুদ ছিল। এছাড়াও,
•ইসরায়েলি সেনাদের ফেলে যাওয়া রেশন, •ধ্বংস না হওয়া কিছু বাড়ির খাবার দিয়ে তারা টিকে ছিলেন।
অনেক সময় বাড়ির মালিকদের উদ্দেশে ক্ষমাপ্রার্থনামূলক নোটও রেখে যেতেন তারা।
নিহত ও আটক নেতারা
ইসরায়েলের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন রাফাহর পূর্ব কাতিবার কমান্ডার মোহাম্মদ আল বাওয়াব এবং তার ডেপুটি ইসমাইল আবু লাবদা। দুজনেই ঘনিষ্ঠ আত্মীয়।
ইসমাইল আবু লাবদা ছিলেন আফ্রাহাম মেনগিস্তো হস্তান্তরের দিনে রেড ক্রসের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগকারী।
এছাড়াও নিহতদের মধ্যে ছিলেন হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য গাজি হামাদের ছেলে আব্দুল্লাহ হামাদ এবং তার চাচাতো ভাই আহমেদ সাঈদ হামাদ।
২০১৪ সালের হদার গোল্ডেন অপহরণের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন
সূত্রগুলো জানায়, আল বাওয়াব ও আবু লাবদা—দুজনই ২০১৪ সালে ইসরায়েলি কর্মকর্তা হদার গোল্ডেন অপহরণ অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন।