হামাসের ‘বন্দি পোস্টার’ দিয়ে ইসরায়েলকে চাপ, সৌদি-ফ্রান্সে ‘দুই রাষ্ট্র সমাধান’ আলোচনা
ঢাকা, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ — গাজার ওপর ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর হামলা তীব্রতর হওয়ায় নতুন করে বহু ভবন ধ্বংস হয়েছে এবং আরও অনেক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংগঠন হামাস ইসরায়েলের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে তাদের হাতে থাকা বন্দিদের বিষয়টি সামনে এনেছে।
হামাসের সামরিক শাখা কাতায়েব আল-কাসাম এক বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেছে, ইসরায়েল তাদের কঠোর অবস্থান বজায় রাখলে বন্দি ইসরায়েলিদের ভাগ্য হবে লেবাননে ১৯৮৬ সালে নিখোঁজ হওয়া ইসরায়েলি বিমানচালক রন আরাদ-এর মতো।
সূত্র মতে, বর্তমানে গাজা উপত্যকায় হামাসের কাছে মোট ৪৮ জন ইসরায়েলি বন্দি রয়েছে। এদের বেশিরভাগকে গাজা শহরে রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
শনিবার আল-কাসাম তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে একটি গ্রাফিক পোস্টার প্রকাশ করে। পোস্টারে ৪৮ জন বন্দির ছবি দেওয়া হয় এবং প্রত্যেককে রন আরাদ নামে পরিচিত করা হয়। সংগঠনটির দাবি, এই পোস্টারটি একটি “বিদায়ী বার্তা” — যা গাজার স্থল অভিযানের শুরুতে প্রকাশ করা হয়েছে।
রন আরাদ ১৯৮৬ সালে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর বন্দি হন। ইসরায়েলে দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বাস করা হয় তিনি বন্দিদশায় মারা গেছেন।
অন্যদিকে, কূটনৈতিক অঙ্গনে সৌদি আরবের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ ফোনালাপে ফিলিস্তিন সংকট নিয়ে আলোচনা করেছেন। তারা সম্প্রতি অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ফলাফল পর্যালোচনা করেন, যেখানে শান্তিপূর্ণ উপায়ে ফিলিস্তিন ইস্যু সমাধান ও ‘দুই রাষ্ট্র সমাধান’ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এদিকে, ব্রিটিশ গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাজ্য আজ আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিতে পারে। তবে একই সঙ্গে হামাসের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপেরও পরিকল্পনা করছে দেশটি। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পদক্ষেপ মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সন্তুষ্ট করার কৌশল।