Tranding

হিমাচলে ভয়াবহ তুষারপাত, মানালিতে আটকে শত শত পর্যটক। ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট, রাজ্য জুড়ে বন্ধ প্রায় ৭০০ রাস্তা।

হিমাচল প্রদেশে প্রবল তুষারপাতের জেরে কার্যত বিপর্যস্ত জনজীবন। রাজ্যের একাধিক শৈলশহরে হালকা থেকে ভারী তুষারপাত অব্যাহত থাকায় রাস্তা বরফে ঢেকে গিয়েছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন মানালিগামী পর্যটকেরা। কোঠি থেকে মানালি পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার এলাকায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। তীব্র ঠান্ডা ও তুষারপাতের মধ্যে বহু পর্যটককে রাতভর গাড়িতেই অপেক্ষা করতে হয়েছে।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, তুষারপাতের ফলে রাজ্য জুড়ে মোট ৬৮৫টিরও বেশি রাস্তা বন্ধ হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রাস্তা বন্ধ রয়েছে লাহুল-স্পিতি জেলায়—মোট ২৯২টি। এছাড়া চম্বায় ১৩২টি, মন্ডীতে ১২৬টি, সিরমৌরে ২৯টি, কিন্নৌরে ২০টি, কাংড়ায় ৪টি, উনায় ২টি এবং সোলানে একটি রাস্তা বন্ধ রয়েছে। দুটি জাতীয় সড়ক—৩ নম্বর ও ৫০৫ নম্বর জাতীয় সড়কও যান চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

নতুন বছরের শুরুতে আবহাওয়ার হঠাৎ পরিবর্তনের ফলে জানুয়ারির শেষ দিকে তুষারপাত শুরু হয়েছে হিমাচলে। দীর্ঘদিন তুষারপাত না হওয়ায় শীতের শুরুতে পর্যটকের সংখ্যা তুলনামূলক কম থাকলেও, গত কয়েক দিনে বরফ পড়া শুরু হতেই দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে বিপুল সংখ্যক পর্যটক মানালি, শিমলা ও কুফরির দিকে ছুটে আসেন। পঞ্জাব, হরিয়ানা, দিল্লি ও চণ্ডীগড় থেকে সপ্তাহান্তে প্রচুর গাড়ি ঢুকেছে পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে।

স্থানীয় সূত্রের খবর, মানালিতে হোটেলগুলির প্রায় সব কটি ঘরই বুক হয়ে গিয়েছে। অনেক পর্যটক হোটেল না পেয়ে বাধ্য হয়ে কুলু বা কুফরির দিকে রওনা দিচ্ছেন। তুষারপাতের কারণে বিদ্যুৎ পরিষেবাও একাধিক এলাকায় ব্যাহত হয়েছে, ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

শুক্রবার সন্ধ্যা থেকেই যানজট শুরু হয় বলে জানা গিয়েছে, যা রবিবার পর্যন্ত পুরোপুরি কাটেনি। শিমলা থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে ঢাল্লি এলাকায় এবং হিন্দুস্তান-টিবেট সড়কে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গিয়েছে। কিন্নৌর ও শিমলার নারকান্ডা, জুব্বল, কোটখাই, কুমারসৈন, রোহরু ও চৌপল এলাকা তুষারপাতের জেরে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে কাংড়া, মন্ডী, সোলান, উনা, বিলাসপুর ও হামিরপুর জেলায় ঘন কুয়াশার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

আটকে পড়া পর্যটকদের অভিযোগ, এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কিছু ট্যাক্সিচালক অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করছেন। ২০ কিলোমিটার পথের জন্য ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া চাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। দিল্লি থেকে আসা এক পর্যটক জানান, দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকার পর তাঁরা গাড়ি ছেড়ে হেঁটেই মানালির দিকে রওনা দেন।

রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর জানিয়েছে, পশ্চিমি ঝঞ্ঝার প্রভাবে আগামী ২৬ থেকে ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত আরও তুষারপাত ও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রশাসনের তরফে পর্যটকদের সতর্ক থাকতে এবং অপ্রয়োজনে পাহাড়ি এলাকায় যাতায়াত এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Trusted source for latest breaking news, headlines, and updates from around the world.

© Your Bango Darpan News. All Rights Reserved.