ঐতিহাসিক স্বীকৃতি: ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিল ব্রিটেন, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও পর্তুগাল
২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫: দুই-রাষ্ট্র সমাধান নিয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সম্মেলনের ঠিক আগেই ফিলিস্তিন পেল একাধিক ঐতিহাসিক স্বীকৃতি। রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) ব্রিটেন, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া এবং কিছু পরেই পর্তুগাল আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এর ফলে এখন পর্যন্ত ১৫৩টি দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিল।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে সোমবার (নিউইয়র্ক সময় বিকেল ৩টা) সৌদি আরব–ফ্রান্সের যৌথ সভাপতিত্বে দুই-রাষ্ট্র সমাধান নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হওয়ার আগে এই স্বীকৃতিগুলো আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। সম্মেলনে সৌদি আরব ও ফ্রান্সের মূল বক্তব্যের পাশাপাশি স্বীকৃতি দেওয়া দেশগুলো নিজেদের অবস্থান তুলে ধরবে।
ব্রিটেনের নীতিগত পরিবর্তন
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এক ভিডিও বার্তায় ঘোষণা করেন:
“আজ আমরা ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছি—ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলিদের জন্য শান্তির আশা পুনর্জাগরণের উদ্দেশ্যে।”
এই সিদ্ধান্তকে যুক্তরাজ্যের বৈদেশিক নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও পর্তুগালের ঘোষণা
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনি জানান, ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পথে বাধা সৃষ্টি করছে। তাই আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের অংশ হিসেবেই কানাডা ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিল।
অস্ট্রেলিয়া সরকার এক বিবৃতিতে জানায়, দুই-রাষ্ট্র সমাধান বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তারাও ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
পর্তুগালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাওলো র্যাঙ্গেল নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের বলেন, ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি তাদের দীর্ঘদিনের নীতিরই বাস্তবায়ন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “ন্যায়সঙ্গত ও টেকসই শান্তির একমাত্র উপায় হলো দুই-রাষ্ট্র সমাধান।”
ফিলিস্তিনের প্রতিক্রিয়া
ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এই পদক্ষেপকে “ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তির পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি” হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি যুদ্ধবিরতি, মানবিক সাহায্য প্রবেশ, বন্দি বিনিময় এবং গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
ইসরায়েলের আপত্তি
অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাকে “ইসরায়েলের অস্তিত্বের জন্য হুমকি” বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জাতিসংঘে অংশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের ঘোষণা দেন।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট
সাম্প্রতিক স্বীকৃতিগুলো সৌদি–ফরাসি উদ্যোগকে নতুন গতি দিয়েছে। গত সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ১৪২টি দেশ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ‘নিউইয়র্ক ঘোষণা’ অনুমোদন করে, যেখানে ফিলিস্তিনের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র গঠনের জন্য ৪২ দফা ‘রোডম্যাপ’ ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে যুদ্ধবিরতি-পরবর্তী গাজা পুনর্গঠন, একটি অন্তর্বর্তী প্রশাসনিক কমিটি গঠন এবং জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তাব।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই নতুন স্বীকৃতিগুলো ফিলিস্তিন প্রশ্নকে আবারও কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক কূটনীতিরও এক বড় বাঁক—যা আগামী দিনে দুই-রাষ্ট্র সমাধান বাস্তবায়নের পথ সুগম করতে পারে।