দমাস্কে নিরাপত্তা পরিষদ প্রতিনিধি দলের ঐতিহাসিক সফর। ইসরায়েলি ‘আক্রমণ’ ও সিরিয়ার পুনর্গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা
সিরিয়ার রাজধানী দমাস্কে বৃহস্পতিবার এক ঐতিহাসিক বৈঠকে যোগ দিলেন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্য দেশের প্রতিনিধিরা। এটি নিরাপত্তা পরিষদ সদস্যদের প্রথম দফা আনুষ্ঠানিক সফর, যা ঘটল দেশটিতে প্রায় এক বছর আগে সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল–আসাদের পতনের পর।
দমাস্কের প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল–শারায় প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানান। এ সময় তিনি সিরিয়ার ভূখণ্ডে চলমান ইসরায়েলি ‘আক্রমণ’ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
সিরিয়ার জাতিসংঘে স্থায়ী প্রতিনিধি ইব্রাহিম আল্লাবি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে জানান,
“নিরাপত্তা পরিষদ সদস্যদের এই সফর সিরিয়ার প্রতি সমর্থন ও সংহতির বার্তা।”
তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলের অভিযানের বিষয়টি বৈঠকের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিল। তাঁর দাবি, আন্তর্জাতিক সমর্থন অব্যাহত থাকলে সিরিয়া সংকট–সৃষ্টিকারী দেশ থেকে একটি স্থিতিশীল রাষ্ট্রে রূপ নিতে পারবে।
ধ্বংসস্তূপ দেখলেন প্রতিনিধি দল
দমাস্কে পৌঁছানোর পর প্রতিনিধি দল সরাসরি যান জোবার এলাকায়—যে অঞ্চলটি যুদ্ধকালে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সেখানে তাঁরা যুদ্ধবিধ্বস্ত ভবন ও অবকাঠামো পরিদর্শন করেন। পরে তাঁরা পুরোনো দমাস্কের ঐতিহাসিক স্থাপনা, বাব তুমার কাছে 'বেইত আল–ওয়ালি' হোটেল এবং উমাইয়া মসজিদ ঘুরে দেখেন।
সফরে তাঁদের সঙ্গে ছিলেন ইউনাইটেড নেশনস স্পেশাল এনভয়ের ডেপুটি নাজাত রোশদি ও সিরিয়ার জাতিসংঘ রাষ্ট্রদূত ইব্রাহিম আল্লাবি।
পরবর্তী গন্তব্য লেবানন
দমাস্কে সিরিয়ার নতুন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে প্রতিনিধি দল লেবাননে যাওয়ার কথা রয়েছে। সফরটি জাতিসংঘের সেই উদ্যোগের অংশ—যার মাধ্যমে সিরিয়ায় দীর্ঘ ১৪ বছরের সংঘাত–পরবর্তী স্থিতি বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক ভূমিকা জোরদার করা হবে।
সংকটময় সময়ে সফর
এই সফরটি এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন—
সিরিয়ায় নতুন রাজনৈতিক প্রশাসন ক্ষমতা সুসংহত করার চেষ্টা করছে
লেবানন সীমান্তে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে চলমান উত্তেজনা অস্থিরতা বাড়িয়েছে
নিরাপত্তা পরিষদ সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট শারায়–এর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে
নিরাপত্তা পরিষদের চলতি মাসের সভাপতি স্লোভেনিয়ার রাষ্ট্রদূত স্যামুয়েল জবোগার বলেন, “এটি ছয় বছরের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিষদের প্রথম আনুষ্ঠানিক সফর এবং সিরিয়ার ক্ষেত্রে প্রথমবার। সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টেফান ডুজারিক জানান, তারা আশা করেন—এই সফর সিরিয়া ও জাতিসংঘের মধ্যে সংলাপ আরও জোরদার করবে।
সিরিয়ায় প্রবেশ নতুন অধ্যায়ের সূচনা
সানা সংবাদ সংস্থার তথ্য মতে, প্রতিনিধি দলটি লেবাননের সীমান্তবর্তী জেদিদা ইয়াবুস ক্রসিং দিয়ে সিরিয়ায় প্রবেশ করে। সফরকালে তারা বিভিন্ন সরকারি প্রতিনিধি ছাড়াও স্থানীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।