আফ্রিকার নতুন রক্ষাকর্তা ইব্রাহিম ত্রাওরে — মসজিদের বদলে স্কুল ও হাসপাতাল চান বুরকিনা ফাসোর তরুণ নেতা
নিজস্ব প্রতিবেদন: মাত্র ৩৭ বছর বয়সেই আফ্রিকার অন্যতম প্রভাবশালী নেতাদের একজন হিসেবে উঠে এসেছেন বুরকিনা ফাসোর অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ত্রাওরে। ফরাসি প্রভাবমুক্ত, আত্মনির্ভর ও নব্য-উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা এক তরুণ বিপ্লবী হিসেবে আজ আফ্রিকা জুড়ে তাঁর জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া।
ইব্রাহিম ত্রাওরে ২০২২ সালে সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেন। প্রাক্তন ঔপনিবেশিক শক্তি ফ্রান্সের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে রাশিয়ার সঙ্গে নতুন কৌশলগত সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বে বুরকিনা ফাসো নিজের স্বর্ণখনির নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছে, স্থাপন করেছে জাতীয় স্বর্ণভান্ডার, এবং শুরু করেছে স্থানীয় শিল্পোন্নয়ন উদ্যোগ।
সম্প্রতি সৌদি আরব বুরকিনা ফাসোতে ২০০টি মসজিদ নির্মাণের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু ইব্রাহিম সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেন — “আমাদের দেশে পর্যাপ্ত মসজিদ আছে, এখন দরকার স্কুল, হাসপাতাল আর কর্মসংস্থান।” তাঁর এই সিদ্ধান্ত আফ্রিকার রাজনীতিতে এক নতুন চিন্তার দিশা এনে দিয়েছে।
তবে পশ্চিমা বিশ্ব তাঁকে ‘কর্তৃত্ববাদী’ নেতা হিসেবে সমালোচনা করছে। সংবাদমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ ও বিরোধীদের দমনের অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। কিন্তু সাধারণ বুরকিনাবাসীর চোখে, ইব্রাহিম ত্রাওরে আজ এক নায়ক, এক পরিত্রাতা — আফ্রিকার নতুন মুখ।