মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগে অমুসলিম প্রার্থীর সংখ্যা বেশি, উঠছে প্রশ্ন সংরক্ষণ নিয়ে
মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগে কোনও সংরক্ষণ না থাকায় অমুসলিম চাকরিপ্রার্থীদের সংখ্যাধিক্য দিন দিন বাড়ছে। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন (MSC) পরিচালিত সপ্তম এসএলএসটি (SLST) পরীক্ষার ভিত্তিতে ১৭টি বিষয়ে মোট ২১৮ জন প্রার্থীর নিয়োগে সুপারিশপত্র পাঠানো হয়েছে, যার মধ্যে ৬০ শতাংশ অমুসলিম এবং ৪০ শতাংশ মুসলিম প্রার্থী।
কমিশন সূত্রে খবর, ২০২৩ সালের এই এসএলএসটি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয় অক্টোবরে। ১৭টি বিষয়ে মোট ৩০২ জনের তালিকা প্রকাশিত হয় কমিশনের ওয়েবসাইটে। ১৩ ও ১৪ অক্টোবর চূড়ান্ত কাউন্সেলিংয়ের পর ২১৮ জনকে নির্দিষ্ট মাদ্রাসায় নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। বাকি ১৯টি বিষয়ে — যার মধ্যে আরবি অন্যতম — দ্রুত ফল প্রকাশের আশ্বাস দিয়েছে কমিশন।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস, দর্শন, কম্পিউটার সায়েন্স, ইসলামিক হিস্ট্রি, সাইকোলজি, ফিজিক্স, বায়োলজি সহ একাধিক বিষয়ে নিয়োগ হয়েছে। নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশ স্তরে শিক্ষক নিয়োগ হলেও, মাদ্রাসাগুলিতে শিক্ষক ঘাটতি এখনো প্রবল। প্রায় সাড়ে তিন হাজার শূন্যপদের মধ্যে মাত্র ১৭২৯টি পদে নিয়োগের অনুমোদন পেয়েছে কমিশন।
কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, নিয়োগ স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে। উত্তরপত্র, প্রাপ্ত নম্বর ও রোল নম্বরসহ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। যেহেতু নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনও সংরক্ষণের বিধান নেই, তাই সমস্ত প্রার্থীই সমান সুযোগে অংশগ্রহণ করেছেন। আদালতের কিছু জটিলতার কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়া বিলম্বিত হলেও, বাকি পদেও দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানিয়েছে কমিশন।
এদিকে, অল বেঙ্গল অ্যারাবিক ফেডারেশন ও অন্যান্য শিক্ষক সংগঠনের দাবি, অ্যারাবিক এবং অ্যাডভান্স অ্যারাবিক সহ বাকি বিষয়গুলির ফল তড়িঘড়ি প্রকাশ করতে হবে। সংগঠনগুলির আশঙ্কা, মাদ্রাসার শিক্ষার ধারাবাহিকতা ও বৈশিষ্ট্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
কমিশনের সদস্য সাবা ইসমাইল জানান, আদালতের জটিলতা কাটিয়ে ধাপে ধাপে নিয়োগ হচ্ছে। তবে মাদ্রাসায় অমুসলিম শিক্ষকের সংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে সরাসরি কিছু না বললেও, তিনি ইঙ্গিত দেন যে কমিশনও মাদ্রাসার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য অটুট রাখতে আগ্রহী।
অন্যদিকে, বিভিন্ন মহলে মাদ্রাসা নিয়োগ নিয়ে ভুল তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। বেঙ্গল মাদ্রাসা এডুকেশন ফোরাম সহ একাধিক শিক্ষক সংগঠন এর প্রতিবাদ জানিয়েছে। তারা স্পষ্ট জানিয়েছে, ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য পরিবেশন থেকে বিরত থাকতে হবে, নাহলে শিক্ষাব্যবস্থায় বিভ্রান্তি সৃষ্টি হবে।