ভারত-ওমানের মধ্যে সিইপিএ বাণিজ্য চুক্তি শিগগিরই স্বাক্ষরিত হতে চলেছে
নয়াদিল্লি, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ — ভারত ও ওমান শিগগিরই ‘কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট’ (সিইপিএ) বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করতে চলেছে। উভয় দেশই তাদের বাণিজ্য ঝুলিকে বৈচিত্র্যময় করতে চাইছে, যাতে আরও বেশি পণ্য ও পরিষেবা আদানপ্রদান করা যায়। এ তথ্য জানিয়েছেন ভারতে নিযুক্ত ওমানের রাষ্ট্রদূত ইসা সালেহ আবদুল্লাহ সালেহ আলশিবানি।
পিটিআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আলোচনার কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে এবং বর্তমানে আইনগত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চলছে। “আশা করছি খুব শিগগিরই আমরা স্বাক্ষরের পর্যায়ে পৌঁছে যাব,” বলেন আলশিবানি।
উল্লেখ্য, সিইপিএ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছিল ২০২৩ সালের নভেম্বরে। এ ধরনের চুক্তির মাধ্যমে দুই বাণিজ্য অংশীদার দেশের মধ্যে আমদানি শুল্ক বড় পরিসরে কমানো বা তুলে দেওয়া হয় এবং পরিষেবা বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহজ হয়।
রাষ্ট্রদূতের মতে, এই প্রস্তাবিত চুক্তি জ্বালানি ছাড়াও অন্য পণ্য ও পরিষেবার বাণিজ্যের পথ খুলে দেবে। বর্তমানে ভারতের ওমান থেকে আমদানির ৭০ শতাংশের বেশি দখল করে আছে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য ও ইউরিয়া। এছাড়া প্রোপিলিন ও ইথিলিন পলিমার, পেট কোক, জিপসাম, রাসায়নিক ও লোহা-ইস্পাতও গুরুত্বপূর্ণ আমদানির তালিকায় রয়েছে।
তিনি বলেন, “ভারত ও ওমানের মধ্যে বাণিজ্যের ভারসাম্য অনেকাংশে নির্ভর করে তেলের দাম ও পেট্রোকেমিক্যালসের দামের উপর। তাই আমরা মনে করছি সিইপিএর মাধ্যমে এই ব্যবসায়িক সম্পর্ককে নতুন খাতে প্রসারিত করা জরুরি।”
ওমান, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) দেশগুলির মধ্যে ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্য। ইতিমধ্যেই ভারত ২০২২ সালের মে মাসে জিসিসি সদস্য দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে অনুরূপ চুক্তি করেছে।
২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ভারত-ওমান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়ায় ১০.৬১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। বর্তমানে ওমানে প্রায় ৬,০০০ ভারত-ওমান যৌথ উদ্যোগ রয়েছে, যেখানে বিনিয়োগের পরিমাণ ৭৭৬ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি। অন্যদিকে, এপ্রিল ২০০০ থেকে মার্চ ২০২৫ পর্যন্ত ভারতে ওমানের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) প্রবাহ দাঁড়িয়েছে ৬০৫.৫৭ মিলিয়ন ডলারে।