কাশ্মীরে নিষিদ্ধ দলের বিরুদ্ধে ভারতের পুলিশের বৃহৎ অভিযান
নয়াদিল্লিতে এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণের কয়েক দিনের মাথায় কাশ্মীরের বিতর্কিত অঞ্চলে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠন জামাতে ইসলামী কাশ্মীর–কে লক্ষ্য করে বৃহৎ পরিসরের অভিযান চালিয়েছে ভারতীয় পুলিশ।
গত সোমবার রাজধানীর পুরনো দিল্লিতে ঐতিহাসিক লালকেল্লার কাছে হওয়া বিস্ফোরণে কমপক্ষে ১২ জন নিহত হয়। যদিও সাম্প্রতিক তল্লাশি অভিযানের সঙ্গে ওই হামলার সরাসরি যোগসূত্র আছে কিনা তা সরকারিভাবে নিশ্চিত করা হয়নি, তবুও ঘটনাটির পর দেশজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ বিস্ফোরণটিকে “নৃশংস সন্ত্রাসী হামলা” হিসেবে ব্যাখ্যা করে।
বুধবার থেকে কাশ্মীরের অওয়ান্তিপুরা, বান্দিপোরা, গান্দেরবল, শোপিয়ান ও সোপোর জেলাজুড়ে তল্লাশি চালানো হয়। বিভিন্ন স্থানে “অপরাধমূলক সামগ্রী” জব্দ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট থানাগুলো জানায়। সোপোর পুলিশ জানায়, একাধিক স্থানে ৩০টির বেশি বাড়ি ও প্রতিষ্ঠান তল্লাশির আওতায় আনা হয়।
২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার জামাতে ইসলামিকে ‘বেআইনি সংগঠন’ ঘোষণা করে নিষিদ্ধ করে। পুলিশের দাবি, সাম্প্রতিক অভিযানের লক্ষ্য সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক ও তাদের আর্থিক ও লজিস্টিক সহায়ক কাঠামো ভেঙে ফেলা।
এদিকে দিল্লির দক্ষিণে ফরিদাবাদের আল–ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়েও অভিযান পরিচালিত হয়। কাশ্মীরের পুলওয়ামায় একটি বাড়ি ভাঙা হয়েছে, যদিও ওই বিষয়ে পুলিশ কোনো মন্তব্য করেনি।
সোমবারের বিস্ফোরণের তদন্ত করছে ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা (NIA)। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে বিস্ফোরক ও হামলা–অস্ত্রসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা পাকিস্তানভিত্তিক জৈশ-ই-মোহাম্মদ এবং কাশ্মীরের আনসার গজওয়াতুল হিন্দ–এর সাথে যুক্ত।