রাষ্ট্রপুঞ্জে দ্বিরাষ্ট্র নীতির পক্ষে ভোট দিল ভারত, বিরোধিতায় আমেরিকা ও ইজরায়েল
অনলাইন, বঙ্গ দর্পণ: রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভায় প্যালেস্তাইনের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে ফের সমর্থন জানাল ভারত। শুক্রবার ‘নিউ ইয়র্ক ডিক্লারেশন’-এ ভোট দিয়ে ভারত জানিয়ে দিল, ইজরায়েল ও প্যালেস্তাইন—দুই পৃথক রাষ্ট্রের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পক্ষেই তাদের অবস্থান। এই ঘোষণাপত্রে দ্বিরাষ্ট্র নীতি বাস্তবায়নের রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। ভারত সহ মোট ১৪২টি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়। বিরোধিতা করেছে ১০টি দেশ, আর ভোটদানে অংশ নেয়নি ১২টি দেশ। আরব দুনিয়ার সব দেশই এ প্রস্তাবে সায় দিয়েছে। তবে ইজরায়েল, আমেরিকা, আর্জেন্টিনা, হাঙ্গেরি, পালাউ, পাপুয়া নিউ গিনি, প্যারাগুয়ে ও টোঙ্গা দ্বিরাষ্ট্র প্রস্তাবের বিরোধিতা করে। ভারতের এই অবস্থান তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল। কারণ এর আগে গাজায় যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত প্রস্তাবে ভোটদানে একাধিকবার বিরত থেকেছিল নয়াদিল্লি। আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে মোদি সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এবার দ্বিরাষ্ট্র নীতিকে সমর্থন করায় সেই বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। ঘোষণাপত্রে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আক্রমণের নিন্দা জানানো হয়, যেখানে নিহত হন প্রায় ১,২০০ ইজরায়েলি নাগরিক এবং পণবন্দি হন ২৫০ জন। পাশাপাশি গাজায় ইজরায়েলের সামরিক অভিযানে ব্যাপক প্রাণহানি, অবরোধ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনেরও নিন্দা করা হয়েছে। ঘোষণাপত্রে স্পষ্ট বলা হয়েছে—“গাজা প্যালেস্তাইনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ওয়েস্ট ব্যাঙ্কের সঙ্গে একত্রিত করে তা ফিরিয়ে দিতে হবে। কোনও ধরনের দখল, অবরোধ বা উচ্ছেদ চলবে না।” ইজরায়েল তীব্র আপত্তি জানিয়ে জানিয়েছে, “রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভা আসলে রাজনৈতিক সার্কাস মাত্র। ঘোষণাপত্রে হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে উল্লেখই করা হয়নি।” আমেরিকাও একই অবস্থান নেয়। মার্কিন কূটনীতিক মর্গ্যান ওর্টাগাস বলেন, “এটি একটি গুরুতর ভুল। এই ঘোষণাপত্র আসলে হামাসের জন্য উপহার।” ভারতের ভোটকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে—নয়াদিল্লি কি আবার পুরনো অবস্থানে ফিরছে, নাকি কূটনৈতিক ভারসাম্যের নতুন বার্তা দিচ্ছে?