ইরানে এসসিও সামরিক মহড়ায় প্রথমবার ভারত–পাকিস্তান সেনারা পাশাপাশি অংশগ্রহণ
ইরানে চলমান বহুজাতিক সামরিক মহড়া ‘শাহানদ–২০২৫’-এ অংশ নিয়ে বিরল নজির সৃষ্টি করেছে দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশ ভারত ও পাকিস্তান। সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও)–এর সমন্বয়ে আয়োজিত এই মহড়ায় সদস্য রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তা বাহিনী সন্ত্রাসবিরোধী প্রস্তুতি ও আঞ্চলিক সহযোগিতা নিয়ে যৌথ অনুশীলন করে।
ইরানের পূর্ব আজারবাইজান অঞ্চলে কয়েক দিনব্যাপী এই মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। ইরান, চীন, রাশিয়া, ভারত, পাকিস্তানসহ মোট ১০টি দেশ এতে অংশ নেয়। এসসিওর নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ২০০৩ সাল থেকে এ ধরনের যৌথ মহড়া চালু রয়েছে।
ভারত ও পাকিস্তানের সেনারা একই মহড়ায় শামিল হলেও দুই দেশের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি সম্পর্কোন্নতির ইঙ্গিত নয়। তাদের মতে, এসসিও সদস্যপদের আনুষ্ঠানিক বাধ্যবাধকতা থেকেই দুই দেশ অংশ নিয়েছে। সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও দীর্ঘদিনের শীতল সম্পর্ক বিবেচনায় এটি কেবল আনুষ্ঠানিক অংশগ্রহণই।
পাকিস্তানের রাজনীতিক ও গবেষকেরা বলছেন, এই যৌথ অংশগ্রহণকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অগ্রগতির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা উচিত নয়। পাকিস্তানি কূটনীতিক আসিফ দুররানি মন্তব্য করেন, সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী অংশ নেওয়া বাধ্যতামূলক; তাই ভারত–পাকিস্তান সম্পর্কের বরফ এখনো গলছে না।
অন্যদিকে ভারতীয় বিশ্লেষকেরা মনে করেন, নয়াদিল্লির জন্য এই মহড়া মূলত এসসিওর নিয়মিত কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পৃক্ততার অংশ। জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সরন সিংয়ের মতে, যৌথ মহড়া দুই দেশের সেনাদের জন্য প্রযুক্তিগত দক্ষতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করে, যদিও রাজনৈতিক উত্তেজনা অটুট রয়েছে।
ভারতীয় কূটনীতিক তালমিজ আহমদ বলেন, মধ্য এশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ বাড়ানোই ভারতের এসসিওতে সক্রিয় থাকার প্রধান উদ্দেশ্য। পাকিস্তানের উপস্থিতি সত্ত্বেও এই মহড়ায় দিল্লির অংশগ্রহণ আসলে তার বৃহত্তর আঞ্চলিক লক্ষ্য অর্জনের অংশমাত্র।