বিপর্যস্ত ইন্ডিগোর পরিষেবা: দুই দিনে বাতিল ২০০-র বেশি ফ্লাইট, ভোগান্তির শেষ নেই যাত্রীদের
টানা দু’দিন ধরে ভয়াবহ অপারেশনাল সমস্যায় বিপর্যস্ত ইন্ডিগোর পরিষেবা। দেশের সর্ববৃহৎ বিমান সংস্থার এই ধস নামায় ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী। মঙ্গলবার ইন্ডিগোর ‘অন-টাইম পারফরম্যান্স’ এক লাফে নেমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩৫ শতাংশে।
বুধবার দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দর মিলিয়ে ২০০-রও বেশি উড়ান বাতিল করেছে ইন্ডিগো। দিল্লি বিমানবন্দরে বাতিল হয়েছে ৩৮টি ফ্লাইট। মুম্বই এবং বেঙ্গালুরু মিলিয়ে বাতিল হয়েছে আরও ৭০টির বেশি উড়ান। হায়দরাবাদেও বাতিল হয়েছে বহু ফ্লাইট। বৃহস্পতিবার সকালে দিল্লি বিমানবন্দরে আরও ৩০টি ফ্লাইট বাতিল হয়। কলকাতা বিমানবন্দরে বাতিল হয়েছে ৪টি বিমান; পাশাপাশি ২৪টি বিমান দেরিতে ওঠানামা করেছে। এর মধ্যে দু’টি আন্তর্জাতিক উড়ান ছিল—একটি সিঙ্গাপুরগামী, অন্যটি কম্বোডিয়ার সিয়াম রিপগামী।
ডিসেম্বরের প্রথম দুই দিনে ইন্ডিগোর সময়মতো ফ্লাইট ছাড়ার হার ছিল যথাক্রমে ৩৫% (২ ডিসেম্বর) এবং ৪৯.৫% (১ ডিসেম্বর)। এ অবস্থায় দেশের বৃহত্তম এয়ারলাইন্সের পরিষেবায় এভাবে ভাটা পড়ায় যাত্রীরা চরম সমস্যার মুখে পড়েছেন।
কেন এই বিপর্যয়?
ইন্ডিগোর পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার নেপথ্যে রয়েছে আপডেট হওয়া ক্রু রোস্টারিং নিয়মাবলী। পাইলটের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় কম; সেই সঙ্গে ক্রু সদস্যের ঘাটতিও রয়েছে। সংস্থার তরফে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় সমস্ত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং আগামী ৪৮ ঘণ্টায় পরিষেবা স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
সরকারি নজরদারি শুরু
ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্ব ঘিরে ব্যাপক বিশৃঙ্খলার জেরে ডিজিসিএ (DGCA) ইন্ডিগো কর্তৃপক্ষকে তলব করেছে। ঠিক কী কারণে ইন্ডিগোর বিমান পরিষেবা হঠাৎ এতটাই বিপর্যস্ত—তা জানতে চেয়েছে বিমান নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
ইন্ডিগো–টার্কিশ এয়ারলাইন্স ইস্যু নিয়েও চাপ
এর আগে কেন্দ্র ইন্ডিগোকে টার্কিশ এয়ারলাইন্সের সঙ্গে বিমান লিজ সংক্রান্ত চুক্তি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছে। সেই সিদ্ধান্তও চাপ বাড়িয়েছে সংস্থার উপর।
দেশজুড়ে বিমান পরিষেবার এই ভেঙেচুরে পড়া অবস্থায় যাত্রীদের অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগ আরও বাড়ছে।