জলপাইগুড়িতে দেশের প্রথম নেতাজির মর্মর মূর্তি সংরক্ষণে উদ্যোগ, বরাদ্দ ৮২ লক্ষ টাকা
জলপাইগুড়ি শহরে অবস্থিত দেশের প্রথম নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মর্মর মূর্তিকে ঘিরে সংরক্ষণ ও সৌন্দর্যায়নের উদ্যোগ নিয়েছে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর। করলা নদীর তীরে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক মূর্তির রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে প্রায় ৮২ লক্ষ টাকা। ইতিমধ্যেই কাজ শুরু হয়েছে বলে দপ্তর সূত্রে জানা গেছে।
ইতিহাস বলছে, ১৯৫১ সালে নেতাজির ৫৪তম জন্মদিন উপলক্ষে জলপাইগুড়ির বাসিন্দা স্বাধীনতা সংগ্রামী কবিরাজ সতীশচন্দ্র লাহিড়ীর উদ্যোগে এই মর্মর মূর্তিটি স্থাপন করা হয়। মূর্তির পাশেই সংরক্ষিত রয়েছে ইম্ফলে শহিদ আজাদ হিন্দ বাহিনীর সৈনিকদের অস্থি ও চিতাভস্ম, যা এই স্থানকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
মূর্তি স্থাপনের ৭৫ বছর পূর্তিকে সামনে রেখে সংরক্ষণ কেন্দ্রের সংস্কার, আলো-শব্দের মাধ্যমে নেতাজি ও আজাদ হিন্দ বাহিনীর ইতিহাস তুলে ধরা এবং দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি একটি ‘সেলফি জোন’ তৈরি করা হচ্ছে, যেখানে দর্শনার্থীরা নেতাজি ও আজাদ হিন্দ বাহিনীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন।
দীর্ঘদিন ধরে জলপাইগুড়ির নেতাজি সুভাষ ফাউন্ডেশন এই ঐতিহাসিক মূর্তির দেখভাল করে আসছে। এবার ফাউন্ডেশন ভবনের সংস্কারসহ মূর্তির সংরক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করল উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর।
উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী উদয়ন গুহ বলেন, এই মূর্তিটি ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী। সাধারণ মানুষের আবেগ ও শ্রদ্ধার কথা মাথায় রেখেই সরকার সংরক্ষণের এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু দু’বার জলপাইগুড়ি সফর করেছিলেন—প্রথমবার ১৯২৮ সালে এবং দ্বিতীয়বার ১৯৩৯ সালে। দ্বিতীয় সফরে তিনি জলপাইগুড়ি শহর থেকেই ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রামের আহ্বান জানিয়েছিলেন।
নেতাজির ১৩০তম জন্মজয়ন্তীর প্রাক্কালে এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন নেতাজি সুভাষ ফাউন্ডেশনের সদস্যরা। ফাউন্ডেশনের সম্পাদক গোবিন্দ রায় জানান, দেশের প্রথম নেতাজির মর্মর মূর্তি সংরক্ষণের দায়িত্ব সরকার নেওয়ায় তাঁরা অত্যন্ত আনন্দিত।