কেরলে জামায়াতে ইসলামিকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক
অনলাইন বঙ্গ দর্পণ,তিরুবনন্তপুরম: কেরলে মুসলিম সংগঠন জামায়াতে ইসলামি-কে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। রাজ্যের প্রধান তিন দল—কংগ্রেস, সিপিএম এবং মুসলিম লিগ—ইদানীং এই সংগঠনকে ঘিরে মন্তব্য করতে বাধ্য হচ্ছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রতিবেশীদের অধিকার রক্ষায় উদ্যোগ ও আন্তসম্পর্ক বৃদ্ধির কর্মসূচি নিয়ে জামায়াতে ইসলামি জনপ্রিয়তা পাচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎই কংগ্রেসের অভিযোগ, ভোটে সুবিধা পেতে সিপিএম-এর সঙ্গে জামায়াতের “আত্মিক সম্পর্ক” রয়েছে এবং সিপিএম তাদের সহযোগিতা নিয়েছে।
এ অভিযোগের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন কঠোর ভাষায় বলেন, “কট্টর হিন্দুত্ব গোষ্ঠী ও জামায়াতে ইসলামি একই গোত্রের দুই পালক।” শুক্রবার তিনি মন্তব্য করেন, এই সংগঠনও কট্টরপন্থী আদর্শে বিশ্বাসী। শনিবার মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, মুসলিম লিগ জামায়াতকে “ভালো সার্টিফিকেট” দিচ্ছে। রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে তিনি আরও একধাপ এগিয়ে বলেন, “জামায়াতে ইসলামি অতিশয় কট্টরবাদী এবং আন্তর্জাতিক কট্টরবাদীদের সঙ্গে যুক্ত। সিপিএম কোনওদিনই তাদের মদদ চায়নি।”
বিজয়ন জানান, তিনি নিজে জামায়াতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পার্টি অফিসে কথা বলেছেন, তবে “এই সংগঠনকে সিপিএম কখনোই সমর্থন করতে পারে না।” তাঁর অভিযোগ, জামায়াত ও কংগ্রেস যৌথভাবে সিপিএম-এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে। অন্যদিকে মুসলিম লিগ ভোটের স্বার্থে জামায়াতকে কাছে টানছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। উল্লেখ্য, কেরলের প্রধান বিরোধী জোট ইউডিএফ-এ কংগ্রেসের সঙ্গেই রয়েছে মুসলিম লিগ।
বিতর্কের মূল প্রেক্ষাপট
সাম্প্রতিক সময়ে সিপিএম সরকারের কিছু সিদ্ধান্তে কেরলের মুসলিম সমাজের অস্বস্তি তৈরি হয়। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য—হাইস্কুলে ছেলে-মেয়েদের একসঙ্গে নাচ-গান ও প্যারেড করার নির্দেশ। এছাড়া কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের শিক্ষানীতি গ্রহণের প্রশ্নে প্রবল বিরোধিতার মুখে সরকারকে পিছিয়ে আসতে হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সিপিএম সরকারের এই “নরম হিন্দুত্ব” প্রবণতায় মুসলিম সমাজের ক্ষোভ বাড়ছে।
এই পরিস্থিতিতেই জামায়াতে ইসলামির ‘প্রতিবেশীদের অধিকার’ কর্মসূচি অমুসলিম সমাজে উল্লেখযোগ্য সাড়া ফেলেছে। ফলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এখন তাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে চাইছে। কেউ মনে করছেন জামায়াতকে নিজেদের পক্ষে টানা জরুরি, আবার সিপিএম-এর মতো দল বিরোধিতায় নামতে বাধ্য হচ্ছে তাদের সেক্যুলার ভাবমূর্তি বজায় রাখতে।