Tranding
রাজ্যের খবর / September 17, 2025

বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক কর্মশালা: আরবি ভাষার সঙ্গে ভারতের প্রাচীন সম্পর্কের উল্লেখ

অনলাইন, বঙ্গ দর্পণ: বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগ এবং ইন্দো-আরব কালচারাল ট্রাস্টের যৌথ উদ্যোগে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হল একদিনের আন্তর্জাতিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা। স্থান ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাদম্বিনী গাঙ্গুলি সেমিনার হল। কর্মশালার মূল বিষয় ছিল “Teaching Language Skills: Effective and Innovative Methods”।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু কমিশনের চেয়ারম্যান আহমদ হাসান ইমরান। তিনি বলেন, “বাংলায় প্রায় আট হাজারেরও বেশি আরবি শব্দ ব্যবহৃত হয়। তাই আরবিকে বিদেশি ভাষা বলা যায় না। ভারতের সঙ্গে আরবি ভাষার প্রাচীন সম্পর্ক রয়েছে, বিশেষত কেরালার মাধ্যমে আরব বণিকদের সঙ্গে ঐতিহাসিক যোগাযোগের কারণে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, একসময় বিজ্ঞানের পরিভাষাও আরবিতে লেখা হত এবং রামমোহন রায়ও আরবি ভাষায় পারদর্শী ছিলেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর শঙ্কর কুমার নাথ, প্রফেসর সুনীল কারফার্মা (ডিন অফ সায়েন্স), আর্টস ফ্যাকাল্টির ডিন প্রফেসর প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা ড. সাইদুর রহমান, রাজ্য মাদ্রাসা শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী সমিতির সম্পাদক আলি হোসেন মিদ্দা, মুখপাত্র সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন, প্রফেসর মুহাম্মদ আলমগীর, ড. মোহাম্মদ শামীম নিজামী, ড. মেহেদী হাসান প্রমুখ। এছাড়াও হাজির ছিলেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের অধ্যাপক এবং গবেষকরা।

প্রধান বক্তা ছিলেন সৌদি আরবের কিং সউদি ইউনিভার্সিটির প্রফেসর আওয়াধ বিন আলি আল-জুমআহ। তিনি ভাষা শিক্ষায় শোনা, বলা, পড়া ও লেখা— এই চারটি দক্ষতার সমান বিকাশে জোর দেন।

ড. সাইদুর রহমান আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আরবি শেখাকে আরও সহজ করার কৌশল ব্যাখ্যা করেন। ড. মেহেদী হাসান বলেন, “ভাষার কোনো জাত, ধর্ম বা সীমা নেই। পৃথিবীর ৭,৫৬৯টি ভাষার প্রতিটির প্রতি সমান শ্রদ্ধা দেখানো উচিত।” প্রফেসর ইউসুফ সিদ্দিক জানান, আরবি ভাষাকে বিদেশি বলা যাবে না, কারণ বাংলায় বহু আরবি শব্দ মিশে ভাষাকে সমৃদ্ধ করেছে।আলোচনায় বক্তারা ভাষা শিক্ষায় নতুন ও উদ্ভাবনী পদ্ধতির উপর গুরুত্ব দেন এবং ভাঙা ভাঙা হলেও আরবিতে কথা বলার চর্চা ও উপযোগী পরিবেশ তৈরির পরামর্শ দেন।বক্তাদের অভিমত, এই ধরনের আন্তর্জাতিক কর্মশালা শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়ের জন্যই সমানভাবে কার্যকর। কর্মশালার শেষে অংশগ্রহণকারীদের সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়। উপস্থিতরা মনে করছেন, এ আয়োজন ভবিষ্যতে ভাষা শিক্ষার নতুন দিক উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আলোচনায় এ-ও উঠে আসে যে, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে আরবি বিভাগ থাকলেও জেলার কোনো কলেজে আরবি পড়ানো হয় না। সংখ্যালঘু কমিশনের চেয়ারম্যান এ বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

Trusted source for latest breaking news, headlines, and updates from around the world.

© Your Bango Darpan News. All Rights Reserved.