আফগানিস্তানে ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধে স্থবির দেশজীবন দুই দিনের জন্য ইন্টারনেট ও মোবাইল পরিষেবা বন্ধে বিপাকে লাখো মানুষ
কাবুল, ইসলামাবাদ: আফগানিস্তানে টানা দুই দিন ইন্টারনেট ও মোবাইল পরিষেবা বন্ধ রাখে তালিবান প্রশাসন। এর ফলে দেশের সরকারি দপ্তর, ব্যাংক, বিমানবন্দরসহ নিত্যদিনের কাজকর্ম সম্পূর্ণভাবে থমকে যায়। স্কুলে নিষিদ্ধ কিশোরী মেয়েরা বাইরের জগতের সঙ্গে শেষ সংযোগটিও হারায়। ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, পরিষেবা পুনরায় চালুর পরেও তালিবান সরকার ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলিতে নির্দিষ্ট কনটেন্টে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যা কেবলমাত্র নজরদারির অধীনে ইন্টারনেট ব্যবহারের ইঙ্গিত দেয়। বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, দেশের সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা ব্যক্তিগতভাবে এই নির্দেশ দেন, যাতে “অনৈতিক কার্যকলাপ” রোধ করা যায়। আমেরিকার ‘সাউথ এশিয়া প্রোগ্রাম’-এর গবেষক আসফানদিয়ার মিরের মতে, “এটি আখুন্দজাদার সবচেয়ে ক্ষতিকর সিদ্ধান্ত—যার প্রভাব পড়েছে দেশের অর্থনীতি ও শিক্ষা ব্যবস্থার উপর।” ইন্টারনেট বন্ধের কারণে সরকারি দপ্তরগুলিতে কাজ বন্ধ হয়ে যায়, ব্যাংক লেনদেন ব্যাহত হয়, এমনকি জাতিসংঘ ও ত্রাণ সংস্থার কার্যক্রমও বিপর্যস্ত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপের ফলে আফগানিস্তান আরও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে, বিশেষত নারী ও তরুণদের জন্য এটি এক “ডিজিটাল কারাগার”-এ পরিণত হচ্ছে।