ওবিসি তালিকায় 'অদৃশ্য' সংখ্যালঘু স্বপ্ন, বঞ্চনার প্রতিবাদে রাস্তায় PIB
নিজস্ব সংবাদদাতা,দেগঙ্গা, ১৯ শে অক্টোবর:
সোশ্যাল জাস্টিসের ক্যানভাসে ফের কালো ছায়া! রাজ্যে ওবিসি (OBC) সংরক্ষণের বর্তমান পদ্ধতি নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে উত্তপ্ত হয়ে উঠল দেগঙ্গা। আঙুল সরাসরি রাজ্যের 'নতুন ওবিসি তালিকা'-র দিকে। 'প্রোগ্রেসিভ ইন্টেলেকচুয়ালস অফ বেঙ্গল' (PIB) নামক এক সংগঠন আজ, রবিবার, এই বঞ্চনার অভিযোগ নিয়ে দেগঙ্গার বিধায়িকা মাননীয়া রহিমা মন্ডলের কাছে একটি 'কড়া' ডেপুটেশন জমা দিয়েছে।
পিআইবি-এর দাবি, এই নতুন তালিকার জেরে সংখ্যালঘু ও অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির বহু মানুষ শিক্ষা, বিশেষত উচ্চশিক্ষা (পিএইচডি ভর্তি) ও অর্থনৈতিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
তাঁদের অভিযোগ, নতুন তালিকা কার্যকর হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি-র মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ৩০ শতাংশ মানুষ কার্যত উধাও। সংরক্ষণ থাকা সত্ত্বেও বহু যোগ্য প্রার্থী সুযোগ পাচ্ছেন না, যা এক গুরুতর সামাজিক ন্যায়ের প্রশ্ন তুলেছে। পিআইবি-এর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে— যেন এক অদৃশ্য হাত যোগ্য সংখ্যালঘু মুখগুলিকে তালিকা থেকে মুছে দিচ্ছে।
তারা আরও আশঙ্কা করছেন আগামী SLST, প্রাইমারি নিয়োগের ক্ষেত্রেও কি একই বঞ্চনার শিকার হতে চলেছে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর যোগ্য, মেধাবীরা?
তাই সংগঠনের মূল দাবি এক এবং স্পষ্ট: অবিলম্বে বর্তমান 'ত্রুটিপূর্ণ' ওবিসি তালিকা বাতিল করে 'পুরনো ওবিসি তালিকা' ফিরিয়ে আনতে হবে। শিক্ষাজগৎ এবং আর্থিক সহায়তার ক্ষেত্রে এই 'চরম বঞ্চনা' দ্রুত দূর করার আর্জি জানানো হয়েছে বিধায়িকার কাছে।
বিধায়িকা রহিমা মন্ডল পিআইবি-এর প্রতিনিধি দলের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেন এবং ডেপুটেশন গ্রহণ করেন। তিনি সমস্যার তীব্রতা স্বীকার করে জানিয়েছেন, এই অভিযোগগুলি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হবে। তিনি আরও আশ্বাস দেন, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দফতরে দ্রুত প্রয়োজনীয় সুপারিশ পাঠিয়ে সমস্যার সমাধানে তিনি বদ্ধপরিকর।
তবে, পিআইবি নেতৃত্ব স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে, বিধায়িকার আশ্বাস কার্যকর না হলে এই বঞ্চনার বিরুদ্ধে শীঘ্রই রাজ্যজুড়ে আরও বড় এবং ঝাঁঝালো আন্দোলনে নামা হবে। আপাতত দেগঙ্গার এই ঘটনা রাজ্যের সংরক্ষণ নীতির বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করলো বলেই মনে করছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল।