প্রতিদিন এক চামচ অলিভ অয়েল খাওয়া কি সত্যিই স্বাস্থ্যের গোপন রহস্য?
অলিভ অয়েল বা জলপাই তেল দীর্ঘদিন ধরেই স্বাস্থ্যকর খাদ্যের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। হেলথ ওয়েবসাইটের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নিয়মিত অলিভ অয়েল খাওয়ার অভ্যাস আয়ু বাড়াতে, হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমাতে এবং সার্বিক শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে। তবে, প্রতিদিন এক চামচ করে অলিভ অয়েল খাওয়া অপরিহার্য নয়।
১. প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে
অলিভ অয়েলে থাকা ওলেইক অ্যাসিড নামের একধরনের মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটের শক্তিশালী অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি গুণ রয়েছে। ক্রীড়া পুষ্টিবিদ কেলি জোন্সের মতে, “অলিভ অয়েল পলিফেনলে সমৃদ্ধ, যা এক ধরনের উদ্ভিজ রাসায়নিক উপাদান এবং দেহে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ভূমিকা পালন করে।”
এই উপাদানগুলো ধমনির প্রদাহ বা অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিসের ঝুঁকি হ্রাস করে এবং হৃদ্রোগ প্রতিরোধে সহায়ক।
২. টাইপ–২ ডায়াবেটিস প্রতিরোধে ভূমিকা
গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন প্রায় ২৫ গ্রাম অলিভ অয়েল গ্রহণ করলে টাইপ–২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ২২ শতাংশ কমে যায়। তাই নিয়মিত খাদ্যতালিকায় অলিভ অয়েল যোগ করা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
৩. দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনযাপনে সহায়ক
মাখন বা সয়াবিন তেলের বদলে অলিভ অয়েল ব্যবহার করলে আয়ু ও সার্বিক স্বাস্থ্য দুটোই উন্নত হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন ৩০ গ্রাম বা তার বেশি অলিভ অয়েল খান, তাঁদের মৃত্যুঝুঁকি প্রায় ২০% কম, ক্যানসারে মৃত্যুর আশঙ্কা ২৩% কম, এবং হৃদ্রোগে মৃত্যুঝুঁকি ২৫% কম, তাদের তুলনায় যারা প্রতিদিন ১৫ গ্রাম বা তার কম গ্রহণ করেন।
এছাড়া অলিভ অয়েল মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়াতে এবং বার্ধক্যজনিত স্মৃতিভ্রংশ রোধে সাহায্য করতে পারে।
• খালি পেটে অলিভ অয়েল খাওয়া কতটা উপকারী?
অনেকে মনে করেন খালি পেটে অলিভ অয়েল খাওয়ার বিশেষ উপকারিতা আছে, কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন—এ বিষয়ে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। সালাদ বা অন্যান্য খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়াই সমান কার্যকর।
• গরম বনাম কাঁচা অলিভ অয়েল
গবেষণা অনুসারে, অলিভ অয়েল ১২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে গরম করলে এর ফিনল উপাদান ৪০% পর্যন্ত কমে যায়, আর ১৭০ ডিগ্রিতে গরম করলে তা ৭৫% পর্যন্ত নেমে যায়। ফলে অতিরিক্ত গরম করলে এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণ নষ্ট হতে পারে।
• সতর্কতা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
অলিভ অয়েল সাধারণত নিরাপদ হলেও খালি পেটে সরাসরি পান করলে হজমের সমস্যা হতে পারে। তাছাড়া এতে ক্যালোরির পরিমাণ বেশি হওয়ায় অতিরিক্ত গ্রহণে ওজন বৃদ্ধি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, অলিভ অয়েলকে আলাদা করে ‘ওষুধের মতো’ খাওয়ার পরিবর্তে প্রতিদিনের স্বাস্থ্যকর খাদ্যের অংশ হিসেবে ব্যবহার করাই উত্তম।
সারাংশ: অলিভ অয়েল নিঃসন্দেহে একটি স্বাস্থ্যকর চর্বি। এটি হৃদ্যন্ত্রের যত্ন নেয়, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং শরীরের প্রদাহ কমায়। তবে প্রতিদিন খালি পেটে এক চামচ করে পান করা আবশ্যক নয়—বরং সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবেই এটি সবচেয়ে কার্যকর।