ইসরাইলের নেক্সট টার্গেট তুরস্ক?
আঙ্কারা, ২২ সেপ্টেম্বর: কাতারের দোহায় হামাস নেতাদের বৈঠকে ইসরাইলি বিমান হামলার পর তুরস্কে উদ্বেগ বেড়েছে। আঙ্কারার আশঙ্কা, এই হামলার ধারাবাহিকতায় ইসরাইলের পরবর্তী লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠতে পারে তারাই।
তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখ পাত্র রিয়ার অ্যাডমিরাল জেকি আতুর্ক বৃহস্পতিবার সতর্ক করে বলেন, ‘ইসরাইল কাতারের মতো বেপরোয়া হামলা চালিয়ে গেলে গোটা অঞ্চলই ধ্বংসের মুখে পড়বে এই বেপরোয়া হামলা গোটা অঞ্চলকে অগ্নিকুণ্ডে তৈরি করবে এবং আমাদেরও টেনে আনতে পারে।' ইসরাইল ও তুরস্ক একসময় আঞ্চলিক মিত্র হলেও গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সম্পর্ক তলানিতে নেমেছে। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান শুরু থেকেই ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থান নিয়েছেন এবং প্রকাশ্যে ইসরাইলকে গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত করেছেন। তিনি একাধিকবার নেতানিয়াহুকে হিটলারের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
ইসরাইল সম্প্রতি ইরান, ইয়েমেন, সিরিয়া এবং সর্বশেষ কাতারে হামলা চালিয়েছে। এভাবে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর আকাশপথ ব্যবহার করে
অবাধে অভিযান চালানোর ক্ষমতা আঙ্কারাকে উদ্বিগ্ন করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসরাইল কৌশলে নিজের চারপাশে দুর্বল বা বিভক্ত রাষ্ট্রগুলোর একটি ‘সীমান্ত বাফার’ গঠন করতে চায়;যেখানে অঞ্চলজুড়ে ছোটোখাটো হামলা ও গুপ্তচরবৃত্তি চালিয়ে তার কৌশলগত দখল বজায় থাকবে। এর
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, তবে ছোট আকারের বোমা বা বন্দুক হামলার ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এরই মধ্যে এরদোগান ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়ানো ও ‘স্টিল ডোম' প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা জোরদার করেছেন। তবে সবচেয়ে বড় সংঘাতের আশঙ্কা সিরিয়ায়। আসাদ
সিরিয়ার উত্তর-পূর্ব হাসাকায়, রুমাইলান এলাকায় তুর্কি ও রাশিয়ার সৈন্যদের যৌথ পাহারা।
ফলে পশ্চিম এশিয়ার রাজনৈতিক ভারসাম্য আরও ভেঙে যাবে; নিরাপত্তা-অভ্যন্তরীণ সংকটের পরিণতি ভোগ করবে সাধারণ মানুষ। যদিও ন্যাটোর সদস্য হওয়ায় ইসরাইলের সরাসরি তুরস্কে হামলা
চালানো ‘অত্যন্ত অসম্ভব' বলে
পতনের পর অঞ্চলটিতে প্রভাব বিস্তার নিয়ে তুরস্ক ও ইসরাইলের স্বার্থ সরাসরি সংঘর্ষে জড়িয়েছে। আঙ্কারা নতুন অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থন করছে, আর ইসরাইল সীমান্তবর্তী
এলাকায় ড্রুজ সংখ্যালঘুদের রক্ষার নামে হামলা চালাচ্ছে।