ইসলাম শিক্ষা বাধ্যতামূলক করল ইসরায়েলি গোয়েন্দা বিভাগ
সরায়েলি সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা শাখা (AMAN) তাদের প্রশিক্ষণ কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে। নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে গোয়েন্দা বিভাগে যোগদানকারী প্রতিটি কর্মকর্তা ও সৈন্যকে ইসলাম সম্পর্কিত বিষয় এবং আরবি ভাষা অধ্যয়ন বাধ্যতামূলক করতে হবে।
সেনাবাহিনীর রেডিও চ্যানেল গালেই তাজহাল–এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, কেবল অনুবাদক বা রেডিও অপারেটর নয়, বিশ্লেষক ও প্রযুক্তি শাখার সদস্যরাও এই শিক্ষার আওতায় আসবেন। উদ্দেশ্য হলো—যে কোনো স্তরের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা যেন কেবল আরবি ভাষা জানেন তাই নয়, ইসলামী সংস্কৃতি, সামাজিক আচরণ ও মানসিকতার দিকগুলোও ভালোভাবে বুঝতে পারেন।
এ লক্ষ্যে সেনাবাহিনীর ভেতরে একটি নতুন প্রশিক্ষণ বিভাগ গঠিত হবে, যেখানে আরবি ভাষা ও ইসলাম অধ্যয়নের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের ভিন্ন ভিন্ন আঞ্চলিক উপভাষা শেখানো হবে। প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হবে নিয়োগের আগেই—প্রাক-নিয়োগকালীন প্রস্তুতিমূলক পাঠ্যক্রম থেকে শুরু করে অফিসারদের প্রাথমিক ও উন্নত পর্যায়ের কোর্স পর্যন্ত এটি চালু থাকবে।
গোয়েন্দা বাহিনীর লক্ষ্য অনুযায়ী, আগামী এক বছরের মধ্যে ১০০ শতাংশ সদস্য ইসলাম সম্পর্কিত মৌলিক শিক্ষা পাবে এবং অন্তত ৫০ শতাংশ সদস্য আরবি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করবে।
এছাড়া ছয় বছর আগে বাজেট ঘাটতির কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া “মধ্যপ্রাচ্য অধ্যয়ন প্রচার বিভাগ” পুনরায় চালু করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সামরিক বাহিনীর পাশাপাশি স্কুল পর্যায়েও মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক শিক্ষা প্রসারে জোর দেওয়া হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, গত বছর ৭ অক্টোবরের পর গোয়েন্দা ব্যর্থতার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এ উদ্যোগ নিয়েছে। সামরিক কর্তৃপক্ষের আশা, আরবি ও ইসলামী অধ্যয়ন গোয়েন্দা সদস্যদের বাস্তব পরিস্থিতি বোঝার সক্ষমতা বাড়াবে।