যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় ইসরাইলি হামলায় নিহত ২৮ ফিলিস্তিনি
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৫; যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার আট দিন পরও গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় অন্তত ২৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। শুক্রবারের হামলায় গাজার জেইতুন এলাকায় একই পরিবারের ১১ সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন—যা এই যুদ্ধবিরতির পর সবচেয়ে ভয়াবহ লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা শনিবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গাজার নাগরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী শুক্রবার সন্ধ্যায় ইসরাইলি ট্যাংক থেকে আবু শাবান পরিবারকে বহনকারী একটি বেসামরিক গাড়িতে গোলা নিক্ষেপ করা হয়। নিহতদের মধ্যে সাত শিশু, তিন নারী এবং পরিবারের কর্তা ছিলেন।
নাগরিক প্রতিরক্ষা মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল বলেন, “পরিবারটি তাদের ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি দেখতে যাচ্ছিল, তখনই সেনারা গুলি চালায়। তাদের সতর্ক করা যেত, কিন্তু ইসরাইল ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিকদের টার্গেট করেছে—এটি তাদের নিষ্ঠুর মানসিকতার পরিচায়ক।”
হামাস এই হামলাকে “গণহত্যা” হিসেবে আখ্যা দিয়েছে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ মধ্যস্থতাকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যাতে তারা ইসরাইলকে যুদ্ধবিরতির শর্ত মেনে চলতে বাধ্য করেন।
এদিকে, যুদ্ধবিরতির পরও ইসরাইল গাজায় মানবিক সহায়তার প্রবাহে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। রাফাহসহ গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তগুলো বন্ধ করে দেওয়ায় খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা গুরুতরভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, গাজার বহু এলাকা দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে। প্রায় অর্ধেক জনগণ দিনে ছয় লিটারেরও কম বিশুদ্ধ পানি পাচ্ছে—যা আন্তর্জাতিক মানবিক মানদণ্ডের নিচে।
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP) জানায়, যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে গাজায় প্রতিদিন গড়ে মাত্র ৫৬০ টন খাদ্য সরবরাহ করা গেছে, যা প্রয়োজনীয় চাহিদার তুলনায় অনেক কম।
হামাস জানিয়েছে, তারা যুদ্ধবিরতির শর্ত মেনে চলছে এবং ইসরাইলি বন্দীদের মৃতদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে। তবে সংগঠনটির দাবি, ইসরাইল গাজায় ভারী যন্ত্রপাতি প্রবেশে বাধা দিচ্ছে, ফলে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মৃতদেহ উদ্ধার ব্যাহত হচ্ছে।
আল জাজিরার গাজা প্রতিনিধি হানি মাহমুদ বলেন, “ইসরাইল এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছে যেখানে মানুষ নিজের প্রিয়জনদের দেহ উদ্ধার করতেও পারছে না।”
বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা ও অবরোধ যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে এবং গাজার মানবিক সংকটকে আরও গভীর করে তুলছে।