দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর ‘বুনিয়াদি স্থাপনা’ লক্ষ্য করে ইসরায়েলের বিমান হামলা। চারটি গ্রামে ভবন খালি করার নির্দেশ
দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর বিভিন্ন ‘বুনিয়াদি অবকাঠামো’ লক্ষ্য করে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। বুধবার এক বিবৃতিতে ইসরায়েল জানায়, হিজবুল্লাহর সামরিক কার্যক্রম দমনে তারা দক্ষিণ লেবাননের কয়েকটি স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে।
লেবাননের সরকারি ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) জানায়, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান দির কিফা এবং শুহুর এলাকায় দুটি বিমান হামলা চালায়। এ সময় দক্ষিণ লেবাননের পূর্বাঞ্চলীয় আকাশে নিম্ন-উচ্চতায় ইসরায়েলি বিমান টহল দিতেও দেখা যায়।
এর আগে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জরুরি বার্তা দিয়ে দক্ষিণ লেবাননের শুহুর, দির কিফা, তির ফালসিয়া এবং আইনাতা গ্রামে বেশ কিছু ভবন খালি করার নির্দেশ দেয়। সেনাবাহিনীর দাবি, শিগগিরই এসব এলাকায় হিজবুল্লাহর সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আভিখাই আদ্রি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'এক্স'-এ লিখেন, হিজবুল্লাহ যে নিষিদ্ধভাবে দক্ষিণ লেবাননে তাদের সামরিক কার্যক্রম পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে—তারই জবাবে এসব অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
ইসরায়েল আরও জানায়, দক্ষিণ লেবাননের আল-তাইরি এলাকায় তারা হিজবুল্লাহর একজন সদস্যকে টার্গেট করে হত্যা করেছে। ওই ব্যক্তিকে হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টায় জড়িত বলে দাবি করে তেল আবিব।
লেবানন সরকার অভিযোগ করেছে, ইসরায়েল ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্র-ফ্রান্সের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করছে—বিমান হামলা চালিয়ে এবং সীমান্তে সেনা বজায় রেখে। অন্যদিকে ইসরায়েল বলছে, হিজবুল্লাহই যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গ করে নিজেদের সামরিক শক্তি বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
এদিকে মঙ্গলবার দক্ষিণ লেবাননের বেন্ট জবেইল এবং ব্লেইদা এলাকায় পৃথক ইসরায়েলি হামলায় হিজবুল্লাহর দুই সদস্য নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, মঙ্গলবার রাতে ইসরায়েল আইন আল-হিলওয়েহ ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরে বিমান হামলা চালালে কমপক্ষে ১৩ জন নিহত হয়।
ইসরায়েল দাবি করছে, ওই শিবিরে হামাসের একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে হামাস অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, লেবাননের শরণার্থী শিবিরে তাদের কোনো সামরিক স্থাপনা নেই এবং ইসরায়েলের দাবি “মিথ্যা”।