দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর ‘বুনিয়াদি স্থাপনা’তে ইসরায়েলের হামলা শুরু
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে নতুন করে বিমান হামলা শুরু করেছে। বুধবার এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে ইসরায়েলি বাহিনী জানায়, “দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর সন্ত্রাসী অবকাঠামোতে হামলা চলছে।”
হামলার আগে ইসরায়েল শিহুর ও দির কিফা—দুটি গ্রামে অবস্থিত কয়েকটি ভবন দ্রুত খালি করার জন্য জরুরি সতর্কতা জারি করেছিল। সেনাবাহিনীর মুখপাত্র অ্যাভিখাই আদ্রেয়ি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স–এ জানান, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই হিজবুল্লাহর সামরিক কর্মকাণ্ড পুনরায় সক্রিয় হওয়ার প্রচেষ্টা দমনে এসব লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হবে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আরও দাবি করেছে, দক্ষিণ লেবাননের আল-তাইরি এলাকায় হিজবুল্লাহর একজন সদস্যকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তাদের মতে, ওই ব্যক্তি সংগঠনের সামরিক সক্ষমতা পুনরায় গড়ে তোলার প্রচেষ্টায় যুক্ত ছিলেন, যা ইসরায়েল–লেবানন সমঝোতার লঙ্ঘন।
লেবানন সরকার অভিযোগ করেছে, ইসরায়েল ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্র–ফ্রান্সের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে—ক্রমাগত বোমাবর্ষণ ও তাদের ভূখণ্ডে সেনা অবস্থান বজায় রেখে। অন্যদিকে ইসরায়েল বলছে, হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতির সুযোগ নিয়ে আবার অস্ত্র ও শক্তি বাড়ানোর চেষ্টা করছে। সম্প্রতি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু হিজবুল্লাহর ওপর একই অভিযোগ করেন।
এদিকে মঙ্গলবার পৃথক দুটি হামলায় দক্ষিণ লেবাননের বেন্ট জবেইল ও ব্লিদা এলাকায় হিজবুল্লাহর দুই সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, মঙ্গলবার রাতে দক্ষিণ লেবাননের আইন আল-হেলওয়া ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছে। ইসরায়েল দাবি করেছে, সেখানে হামাসের একটি ‘প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’ লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। তবে হামাস এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, লেবাননের কোনো শরণার্থী শিবিরে তাদের সামরিক স্থাপনা নেই; ইসরায়েলের অভিযোগ ‘মিথ্যা’।