যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় ইসরাইলি হামলা অব্যাহত, নিহত ৫০৯ জন
যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি সামরিক অভিযান থামেনি। সর্বশেষ হামলায় মধ্য গাজার ওয়াদি গাজা এলাকায় এক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আরও দুইজন আহত হয়েছেন। রোববার সকালে বেসামরিক মানুষের একটি জমায়েত লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয় বলে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার বরাতে জানা গেছে।
আল-আকসা শহীদ হাসপাতালের চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে, হামলার পর আহত দু’জনকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, ওয়াদি গাজার উত্তরে একটি ইসরাইলি ড্রোন থেকে অন্তত একটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। উল্লেখযোগ্যভাবে, যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় এই এলাকা আগেই ইসরাইলি সেনাদের উপস্থিতিমুক্ত ছিল।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পরও ইসরাইলি হামলায় এখন পর্যন্ত মোট ৫০৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ১ হাজার ৪০৫ জন। স্থানীয় প্রশাসনের অভিযোগ, তেল আবিব প্রতিদিনই যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করছে।
এর আগে শুক্রবার ও শনিবার টানা দুই দিনের হামলায় গাজার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে। ওই হামলায় আশ্রয়কেন্দ্র, বাস্তুচ্যুত মানুষের অস্থায়ী আবাস, একটি পুলিশ কেন্দ্র এবং আবাসিক ভবনে আঘাত হানা হয়। এতে অন্তত ৩৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হন বলে স্থানীয় সূত্রে জানানো হয়েছে।
এদিকে পৃথক ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় থাকা গাজা সিটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ইসরাইলি সেনাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে। একই সময়ে সামরিক যান ও ভারী যন্ত্রপাতি থেকে গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটে। রাফাহ শহরের পশ্চিমাংশ এবং বুরেইজ শরণার্থী শিবিরের পূর্ব দিকেও ইসরাইলি বাহিনীর গুলিবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে। উত্তর গাজার উপকূল এলাকায় ইসরাইলি নৌবাহিনী সাগরের দিকে গুলি ছোড়ে বলেও জানা গেছে।
প্রসঙ্গত, যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে দুই বছর ধরে চলা ইসরাইলি সামরিক অভিযানের অবসান ঘটার কথা থাকলেও বাস্তবে সহিংসতা পুরোপুরি থামেনি। ওই দীর্ঘ সংঘাতে প্রায় ৭১ হাজার ৮০০ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭১ হাজার ৪০০ জনের বেশি আহত হন। হামলার ফলে গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, গাজা পুনর্গঠনে প্রায় ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হতে পারে।