ইসরায়েলি চলচ্চিত্র পুরস্কার স্থগিত: ফিলিস্তিনি কিশোরের সমুদ্র দেখা নিয়ে নির্মিত ছবির জয়ে বিতর্ক
লন্ডন: ইসরায়েলি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এ বছর থেকে তাদের বার্ষিক চলচ্চিত্র পুরস্কার “অফির অ্যাওয়ার্ডস”-এ আর্থিক সহায়তা বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। এর পেছনে কারণ হলো পরিচালক শাই গারমেলি–পোলাক নির্মিত “দ্য সি” (সমুদ্র) ছবির সেরা ইসরায়েলি চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন। ছবিটি সরাসরি অস্কারের “সেরা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র” বিভাগে মনোনয়নের সুযোগ পেয়েছে।
ছবির কাহিনীতে বারো বছরের ফিলিস্তিনি বালক খালেদের স্বপ্ন দেখানো হয়েছে—যে প্রথমবারের মতো সমুদ্র দেখতে চেয়েছিল। কিন্তু সামরিক চৌকিতে আটকে পড়ে সে বাধার সম্মুখীন হয় এবং একাই পথচলা অব্যাহত রাখে। এ গল্প ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
ছবিটি শুধু সেরা চলচ্চিত্রই নয়, সেরা অভিনেতা ও সেরা সহ-অভিনেতার পুরস্কারও জিতেছে। তবে ইসরায়েলের সংস্কৃতি ও ক্রীড়া মন্ত্রী মিকি জোহর এই জয়কে “অপমানজনক” আখ্যা দিয়ে বলেন, “করদাতাদের টাকা দিয়ে এ ধরনের অনুষ্ঠান চালানো গ্রহণযোগ্য নয়।”
অন্যদিকে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪ হাজার চলচ্চিত্র নির্মাতা ও শিল্পী ‘Film Workers for Palestine’ নামক একটি আবেদনে স্বাক্ষর করেছেন, যেখানে ইসরায়েলি চলচ্চিত্র প্রতিষ্ঠানগুলোর বয়কট দাবি করা হয়েছে। গ্রিসের ইউর্গোস লান্থিমোস, আমেরিকার এভা ডুভেরনে, অভিনেতা হাভিয়ের বারদেম, জোয়াকিন ফিনিক্স, টিল্ডা সুইনটন, অলিভিয়া কোলম্যান, মার্ক রাফালোসহ বহু শিল্পী এতে সমর্থন জানিয়েছেন।
হাভিয়ের বারদেম সম্প্রতি এমি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ফিলিস্তিনি কেফিয়াহ পরে বক্তব্য দেন এবং প্রশ্ন তোলেন: “কত ফিলিস্তিনি শিশুকে মরতে হবে, তারপরে বিশ্ব নড়ে উঠবে?”
এদিকে হলিউড স্টুডিও প্যারামাউন্ট আনুষ্ঠানিকভাবে বয়কট আন্দোলনের বিরোধিতা করেছে, যদিও ওয়ার্নার, ইউনিভার্সালসহ অন্যান্য বড় স্টুডিও নীরবতা বজায় রেখেছে।
এখন প্রশ্ন—যদি ফিলিস্তিনের “প্যালেস্টাইন 36”, টিউনিসিয়ার “সাউন্ড অব হিন্দ রজব” এবং ইসরায়েলের “দ্য সি” একসাথে অস্কারের মূল তালিকায় ওঠে, তবে একাডেমির ভোট কোন দিকে যাবে? চলচ্চিত্র জগতের এই দ্বন্দ্ব গাজা যুদ্ধকে ঘিরে আরও তীব্র আকার নিচ্ছে।