ইসরায়েলি সেনার স্থল অভিযান শুরু, গাজা সিটির দিকে অগ্রসরতা
অনলাইন, বঙ্গ দর্পণ: গাজা সিটিকে “হামাসের রাজধানী” আখ্যা দিয়ে সেখানে ব্যাপক স্থল অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েল। মঙ্গলবার রাত থেকে ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান প্রবেশ করেছে শহরের প্রান্তে। ইসরায়েলি সেনার হিসাব অনুযায়ী, প্রায় আড়াই হাজার হামাস যোদ্ধার বিরুদ্ধে এই লড়াই চলবে কয়েক মাস ধরে।
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা দেন যে গাজা সিটিতে “বৃহৎ সামরিক অভিযান” শুরু হয়েছে। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ৯৮, ১৬২ ও ৩৬ নম্বর ডিভিশন শহরের ভেতরে ধাপে ধাপে অগ্রসর হচ্ছে। এ অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে “গিডিওন কারাভান ২”।
সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ
ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে মঙ্গলবার একদিনেই শতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি গণমাধ্যম। আহত হয়েছেন বহু মানুষ।
প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার বাসিন্দা গাজা সিটি ছেড়ে গেছে। তবু শহরে এখনো প্রায় ৮ লাখ মানুষ রয়ে গেছে। হাজার হাজার মানুষ হাঁটতে হাঁটতে ভিড় করছে রাস আবু রশিদ সড়কে, যা দক্ষিণের দিকে যাওয়ার একমাত্র রুট।
অভিযানের লক্ষ্য
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল ক্যাটজ জানিয়েছেন, “হামাসের কাছ থেকে আমরা চাই দুটি বিষয়—সব জিম্মির মুক্তি ও তাদের নিরস্ত্রীকরণ।”
তিনি বলেন, গাজা সিটি হামাসের প্রধান প্রতীকে পরিণত হয়েছে। এ শহর পতন হলে হামাসের শাসনও ভেঙে পড়বে।
চিফ অব স্টাফ ইয়াল জামির বলেছেন, অভিযানের প্রথম লক্ষ্য হলো হামাসের গাজা ব্রিগেডকে পরাজিত করা। তার ভাষায়, “এই লড়াইয়ের নৈতিক দায়িত্ব হলো জিম্মিদের ঘরে ফিরিয়ে আনা ও হামাসের সামরিক সক্ষমতা ভেঙে দেওয়া।”
যুক্তরাষ্ট্র ও ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, হামাস যদি জিম্মিদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তবে তার ফল ভয়াবহ হবে।
তিনি আরও বলেন, “হামাস নেতাদের বোঝা উচিত তারা নিজেদের জন্য কী বিপদ ডেকে আনছে।”
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গাজা অভিযানে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, “এটি ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়।”
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নতুন বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার এই অভিযানকে “মর্মান্তিক ও বেপরোয়া” বলে আখ্যা দিয়েছেন।
এছাড়া স্পেনের রাজা ফিলিপে ষষ্ঠ গাজার পরিস্থিতিকে “অসহনীয় মানবিক বিপর্যয়” বলে উল্লেখ করেছেন।
উপসংহার
ইসরায়েল বলছে তারা ইতিমধ্যেই গাজা সিটির প্রায় ৪০ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। তবে সামরিক মহলের মতে, এই অভিযান জানুয়ারি পর্যন্ত চলতে পারে। ফিলিস্তিনি পক্ষ বলছে, ইসরায়েল গাজা সিটিকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করছে এবং লাখো মানুষকে মৃত্যু ও অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে।