গাজায় ইসরায়েলি স্থল অভিযান শুরু, মার্কো রুবিওর কড়া হুঁশিয়ারি
তেলআবিব/গাজা, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ — ফিলিস্তিনি গাজা শহরে ইসরায়েলি সেনা মঙ্গলবার ভোরে ব্যাপক স্থল অভিযান শুরু করেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ভোর থেকেই শহরজুড়ে তীব্র গোলাবর্ষণ ও বোমা হামলা চলছে, বহু আবাসিক ভবন ধসে পড়েছে, অসংখ্য মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে নিশ্চিত করেছেন যে, সেনারা ধাপে ধাপে শহরের কেন্দ্রে প্রবেশ করছে। এ অভিযানের আগে টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে ইসরায়েল গাজায় আকাশপথে তীব্র বোমা বর্ষণ চালিয়ে এসেছে। ফিলিস্তিনি সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত অন্তত ৩৮ জন নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ জানিয়েছে, গত চার দিনে গাজায় তাদের ১০টি ভবন লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে, যার মধ্যে ৭টি স্কুল এবং ২টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র বর্তমানে হাজারো বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। এদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইসরায়েল সফর শেষে কাতারের উদ্দেশে রওনা হয়ে সাংবাদিকদের বলেন, “হামাসের হাতে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব গ্রহণের জন্য খুবই সীমিত সময় রয়েছে। মাস নয়, হয়তো কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহ।” তিনি আরও যোগ করেন, কাতারই একমাত্র দেশ যারা এই মুহূর্তে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান বের করতে পারে। রুবিওর সফরের প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাত্জ ঘোষণা করেন, “গাজা জ্বলছে। আমরা সন্ত্রাসী অবকাঠামো ধ্বংস করছি এবং হাল ছাড়ব না।” গাজার উত্তরাংশ থেকে অন্তত ৩ লক্ষ বাসিন্দা দক্ষিণে পালিয়ে গেলেও শহরে এখনও প্রায় ৭ লক্ষ মানুষ রয়ে গেছেন। সীমিত রুট ধরে পালাতে গিয়ে অসংখ্য মানুষ গাড়ি ও হেঁটে ভিড় জমাচ্ছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, শহরে বোমা হামলার শব্দ প্রায় থামছেই না। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেন, এই স্থল আক্রমণ হামাসের বিরুদ্ধে “চূড়ান্ত বড় পরাজয়” নিশ্চিত করবে। তবে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে সেনা কর্মকর্তাদের একাংশ এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করছেন। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছেন, হামাস জিম্মিদের শহরের বাইরে সরিয়ে নিয়েছে এবং তাদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। এ প্রসঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যদি এমন হয়, তবে সবকিছু ভেস্তে যাবে। এখনই জিম্মিদের মুক্তি দিতে হবে।” ফিলিস্তিনে চলমান সংঘাতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৪ হাজার ৯০৫ জন, আহতের সংখ্যা ১ লাখ ৬৪ হাজার ৯২৬। তীব্র বোমা বর্ষণ, ক্ষুধা ও অভাব– সব মিলিয়ে গাজার মানবিক পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ আকার নিচ্ছে।