ইসরায়েলি সেনার স্থল অভিযান শুরু, লক্ষ্য গাজা নগর দখল
গাজা সিটি: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | মঙ্গলবার ভোর থেকে ইসরায়েলি সেনা গাজা নগর দখলের জন্য ব্যাপক স্থল অভিযান শুরু করেছে। সেনা সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে, এ অভিযান ধাপে ধাপে এগোনো হবে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোর রাত থেকেই গাজা সিটি জুড়ে ভয়াবহ বিমান ও স্থল হামলা শুরু হয়। ফিলিস্তিনি টেলিভিশন জানিয়েছে, আজ সকাল পর্যন্ত অন্তত ৩৮ জন নিহত হয়েছেন। অসংখ্য মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন বলে জানিয়েছে গাজার সিভিল ডিফেন্স। শহরে ট্যাঙ্ক প্রবেশ, তীব্র ধ্বংসযজ্ঞ প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইসরায়েলি ট্যাঙ্ক গাজার ভেতরে ঢুকে পড়েছে। একাধিক বহুতল ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ধ্বংসের মাত্রা গত দুই বছরে দেখা যেকোনো ঘটনার চেয়ে ভয়াবহ বলে বর্ণনা করেছেন স্থানীয়রা। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৩ লাখ বাসিন্দা ইতিমধ্যে গাজা সিটি ছেড়ে দক্ষিণে পালিয়েছেন। তবু এখনো প্রায় ৭ লাখ মানুষ শহরেই আটকা রয়েছেন। ভেতরে-বাইরে সমালোচনা ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দেশটির সেনাবাহিনীর একাংশ এবং সেনাপ্রধান আইয়াল জামির এই অভিযানের বিপক্ষে ছিলেন। তবে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু তার নির্দেশ বহাল রাখেন। নেতানিয়াহু দাবি করেন, এ অভিযানে হামাসের বিরুদ্ধে আরও বড় ধরনের "পরাজয়" নিশ্চিত হবে। মানবিক সংকট ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া গাজার রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ পায়ে হেঁটে বা জীর্ণযান নিয়ে দক্ষিণে আশ্রয়ের খোঁজে যাচ্ছেন। জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ জানিয়েছে, গত কয়েক দিনে গাজায় তাদের ১০টি স্থাপনা, যার মধ্যে ৭টি স্কুল, বোমায় বিধ্বস্ত হয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সোমবার ইসরায়েল সফরে এসে সমর্থন জানিয়ে বলেন, “হামাসের বিরুদ্ধে পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের পাশে থাকবে।” তিনি মঙ্গলবার কাতার সফরে যাচ্ছেন, যেখানে হামাসকে যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে চাপ দেওয়ার চেষ্টা চালাবেন। পরিবারগুলোর ক্ষোভ তবে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে সমালোচনার ঝড় বইছে। বন্দিদের পরিবারগুলো বলছে, নেতানিয়াহুর সিদ্ধান্তের কারণে জিম্মিদের জীবন আরও বিপন্ন হচ্ছে। তারা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব দাবি করে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ও বন্দিমুক্তির আহ্বান জানিয়েছেন।