গাজায় পরিবারগুলির উপর ইসরায়েলের হামলা, নিহত বহু মানুষ
গাজা, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ — গাজার প্রভাবশালী পরিবার ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ইসরায়েলের সঙ্গে সহযোগিতা করতে অস্বীকার করায় ভয়াবহ বিমান হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ। শনিবার ইসরায়েলি বাহিনী একাধিক এলাকায় ধারাবাহিকভাবে বোমাবর্ষণ করে, যাতে বহু পরিবার ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেত (শাবাক) সম্প্রতি কয়েকটি বড় পরিবার—যেমন বকর ও দঘমেশ—এর মুখ্য প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তাদের প্রস্তাব ছিল, গাজা উপত্যকার বিভিন্ন অঞ্চলকে স্থানীয় পরিবার বা গোত্রভিত্তিক প্রশাসনের অধীনে দেওয়া হবে। এই কাঠামোতে পরিবারগুলো স্থানীয় শাসন, মানবিক সাহায্যের বণ্টন এবং নিরাপত্তা বিষয়ক তথ্য ইসরায়েলের হাতে তুলে দেবে, বিনিময়ে তারা ওই অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করবে এবং হামাসের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে। তবে পরিবারগুলো সরাসরি এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে।
এর পরপরই হামলা শুরু হয়। গাজার সাবরা এলাকায় দঘমেশ পরিবারকে লক্ষ্য করে একাধিক বোমা ফেলা হয়। এতে অন্তত ৩০ জন নিহত হন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অন্তত ২০ জন চাপা পড়ে আছেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। একইভাবে শনিবার ভোরে বকর পরিবারের বাড়িতে বোমা হামলায় ৬ জন নিহত এবং ১১ জন আহত হন। পরে দুপুরে পরিবারের আরেকটি বহুতল ভবনে হামলা চালানো হয়, যাতে আরও অনেকে আহত হয়েছেন। এছাড়া গাজার উপকূলের কাছে খালি একটি ভবনেও বিমান হামলা চালানো হয়।
বকর পরিবারের এক গণ্যমান্য ব্যক্তি বলেন, “ইসরায়েল আমাদের চাপ দিয়েছিল শরণার্থী শিবির এলাকায় নিজেদের একটি সশস্ত্র দল গঠন করতে। তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে হামাসকে সরিয়ে দেওয়ার পর ওই এলাকা আমাদের হাতে তুলে দেবে। আমরা সেই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছি।” তাঁর দাবি, পরিবার বুঝতে পেরেছিল এই অস্বীকৃতির পর প্রতিশোধ আসবে, তাই তারা মহিলাদের ও শিশুদের নিরাপদে দক্ষিণ গাজায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
গাজার বিভিন্ন এলাকায় বর্তমানে ইসরায়েল এমন পরিবারভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী গঠনের চেষ্টা করছে। তবে বহু পরিবার প্রকাশ্যে জানিয়ে দিয়েছে, তারা এমন কোনও সহযোগিতায় রাজি নয়। হামাসও এর আগে একাধিকবার এই ধরনের গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে, অনেককে হত্যা বা প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে।
মার্কিন প্রশাসন, আরব ও ইসলামিক দেশগুলো বর্তমানে যুদ্ধোত্তর গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে। প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় রয়েছে—একটি অস্থায়ী প্রশাসনিক কমিটি গঠন, যেখানে আরব দেশগুলোর অংশগ্রহণ থাকবে এবং নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবে আঞ্চলিক সেনা বা পুলিশ। পরে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে পুনর্গঠন করে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
হামাসের কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, তারা যুদ্ধোত্তর প্রস্তাবগুলো নিয়ে ইতিবাচক আলোচনায় রাজি এবং প্রয়োজনে শাসনভার ছাড়তেও প্রস্তুত। আন্তর্জাতিক মহলে তাই যুদ্ধবিরতি ও ইসরায়েলের ধাপে ধাপে প্রত্যাহারের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।