গাজা নগরীতে ইসরায়েলি সেনা মোতায়েন বৃদ্ধি, পশ্চিম তীরে অতিরিক্ত বাহিনী
গাজা, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ — ইসরায়েলি পত্রিকা জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী হাজারো অতিরিক্ত সৈন্যকে গাজা নগরীতে পাঠিয়েছে, শহরের কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণ দ্রুততর করার উদ্দেশ্যে। সেনা সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, পদাতিক, সাঁজোয়া যান এবং প্রকৌশল ইউনিটের হাজার হাজার সদস্য ইতিমধ্যেই গাজায় মোতায়েন হয়েছে।
বর্তমানে প্রায় ৭০ হাজার সেনা গাজা নগরীতে সক্রিয় অবস্থায় রয়েছে, এবং এ সংখ্যা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শনিবারও ইসরায়েলি বাহিনী গাজা নগরী ও গোটা উপত্যকাজুড়ে অভিযান চালায়, যেখানে ফিলিস্তিনি সূত্র জানায়, ভোর থেকে চালানো হামলায় ৯০ জনেরও বেশি নিহত হয়েছেন।
গত সপ্তাহ থেকে ইসরায়েল গাজায় বহুতল ভবন ধ্বংসের জন্য ব্যাপক অভিযানে নেমেছে। সেনাবাহিনীর দাবি, গত দুই সপ্তাহে তারা অন্তত ২০টি টাওয়ার ধ্বংস করেছে। একই সঙ্গে সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার মানুষ নগরী ছাড়লেও এখনও প্রায় ৬ লাখ মানুষ সেখানে রয়ে গেছেন। এর মধ্যে হামাসের হাতে বন্দি কয়েকজন ইসরায়েলি নাগরিকও রয়েছে।
হামাসের সামরিক শাখা শনিবার টেলিগ্রামে বন্দিদের ছবি প্রকাশ করে সতর্ক করেছে, চলমান সামরিক অভিযানের কারণে তাদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। বর্তমানে গাজায় ইসরায়েলের ৪৮ জন বন্দি রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
এদিকে পশ্চিম তীরে ইহুদি ধর্মীয় উৎসব সামনে রেখে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ৮টি নতুন ইউনিট যোগ করেছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
অন্যদিকে, হামাস তাদের হাতে থাকা বন্দিদের ঘিরে নতুন চাপ সৃষ্টির কৌশল নিয়েছে। সংগঠনের সামরিক শাখা "কাতায়েব আল-কাসাম" প্রকাশিত এক পোস্টারে ইসরায়েলি বন্দিদের ছবি "শেষ বিদায়" হিসেবে তুলে ধরে হুমকি দিয়েছে যে, তারা ১৯৮৬ সালে লেবাননে নিখোঁজ হওয়া ইসরায়েলি পাইলট রন আরাদের মতো পরিণতির শিকার হতে পারেন।
একই সময়ে, সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ফোনালাপে ফিলিস্তিন সংকট সমাধানে শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং "দুই রাষ্ট্র সমাধান" কার্যকর করার লক্ষ্যে যৌথ উদ্যোগের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেছেন।