ইসরায়েলের সম্ভাব্য ‘প্রি-এম্পটিভ’ হামলা: লেবাননে উত্তেজনা চরমে
ইসরায়েলের সেনাবাহিনী সতর্ক করেছে যে লেবাননে ‘হিজবুল্লাহ’র ক্রমবর্ধমান শক্তি তাদেরকে একটি আগাম বা প্রি-এম্পটিভ সামরিক অভিযানের দিকে ঠেলে দিতে পারে। লেবাননের ভেতরে ইসরায়েলি স্থল অভিযান বৃদ্ধির মধ্যেই এই আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
ইসরায়েলি দৈনিক ইয়েদিয়োথ আহরোনোথ-এর সহপ্রতিষ্ঠান ‘ওয়াই–নেট’-এর খবরে জানানো হয়, লেবাননের অভ্যন্তরে ইসরায়েলি বাহিনীর প্রতিদিনের বাড়তি সক্রিয়তা সত্ত্বেও হিজবুল্লাহ তাদের বাহিনী ও শক্তি দ্রুত বাড়িয়ে চলেছে, বিশেষ করে সীমান্ত থেকে দূরের গ্রামগুলোতে।
দক্ষিণ লেবাননে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার এক বছর পর ইসরায়েলের সামরিক কর্মকর্তারা মনে করছেন, দেশের সামনে এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা আসছে—২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলার পর যে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছিল, সেটি কার্যকর রাখার চ্যালেঞ্জ। কর্মকর্তাদের দাবি, ইসরায়েল খুব শিগগিরই একটি স্বল্পমেয়াদি প্রি-এম্পটিভ অপারেশন শুরু করতে পারে, যার লক্ষ্য হিজবুল্লাহর যোদ্ধাদের নিরুৎসাহিত করা এবং তাদের শক্তি ক্ষয় করা।
এদিকে গতকাল আবারও ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর হামলায় আলোচনায় এসেছে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহর (দাহিয়া)। সেখানে পরিচালিত এক টার্গেটেড হামলায় নিহত হয়েছেন হিজবুল্লাহর দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা, ইরানি বংশোদ্ভূত হাইসম আলী তাবাতাবাই। এ ঘটনায় অন্তত ৫ জন নিহত ও ২৮ জন আহত হন।
রবিবার সন্ধ্যায় দেওয়া বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ তাবাতাবাইকে ‘বড় মাপের নেতা’ হিসেবে উল্লেখ করে জানায়, তিনি সংগঠনের সূচনা থেকেই সামরিক কাঠামোর অন্যতম ভিত্তি স্থাপনকারীদের একজন ছিলেন। তবে সংগঠনটি এই হামলার জন্য কোনো পাল্টা প্রতিশোধের ঘোষণা দেয়নি।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইসরায়েলের হামলা লেবাননের দক্ষিণ ও বেকা উপত্যকায় কেন্দ্রীভূত ছিল। তবে ইসরায়েলি নেতৃত্ব বারবার ইঙ্গিত দিচ্ছে যে অভিযান আরও বিস্তৃত হতে পারে। গতকাল সকালে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু পুনরায় বলেন, হিজবুল্লাহ যাতে তাদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন করতে না পারে, সে জন্য যা প্রয়োজন, ইসরায়েল তাই করবে।
লেবাননের দক্ষিণে ইসরায়েলের টার্গেটেড কিলিং অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে, এবং সীমান্তজুড়ে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।