বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে জামাআতে ইসলামী হিন্দের গভীর উদ্বেগ ও আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার আহ্বান
জামাআতে ইসলামী হিন্দ -এর সভাপতি সৈয়দ সাদাতুল্লাহ হুসাইনি বাংলাদেশে দ্রুত অবনতিশীল রাজনৈতিক, সামাজিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি দেশটির বর্তমান কর্তৃপক্ষের প্রতি দায়িত্বশীলতা, সংযম ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি সুস্পষ্ট অঙ্গীকারের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে দেশে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা যায়।
গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, বাংলাদেশে চলমান ঘটনাপ্রবাহ দেশটিকে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা ও সহিংসতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আইনশৃঙ্খলার ক্রমাবনতি দুষ্কৃতীদের জন্য পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার পথ খুলে দিয়েছে, যার ফলে ব্যক্তি, সম্পত্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলার ঘটনা বাড়ছে। সম্প্রতি গুজবের ভিত্তিতে এক সংখ্যালঘু নাগরিককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাকে তিনি মর্মান্তিক, নিন্দনীয় ও অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে আখ্যায়িত করে এর তীব্র নিন্দা জানান।
তিনি বলেন, “এ ধরনের সহিংসতা যেখানে-ই সংঘটিত হোক না কেন, তা নৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য, আইনত গুরুতর অপরাধ এবং সমাজের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। কোনো অভিযোগ, কোনো আবেগ কিংবা কোনো রাজনৈতিক পরিস্থিতিই জনতার হাতে আইন তুলে নেওয়া বা মানুষের প্রাণহানি ঘটানোর বৈধতা দিতে পারে না।”
সৈয়দ সাদাতুল্লাহ হুসাইনি জোর দিয়ে বলেন, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষা করা যে কোনো সরকারের নৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা ও সাংবিধানিক বৈধতার একটি গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড। তিনি বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জীবন ও সম্মান সুরক্ষা, উপাসনালয় রক্ষা এবং সহিংসতা, বৈষম্য ও স্বেচ্ছাচারী বিচার কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না—এই বার্তা স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান।
ঝুঁকির মুখে থাকা জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়াতে সাধারণ নাগরিক ও নাগরিক সমাজের বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানান। তিনি বলেন, এ ধরনের জনসংহতি সমাজের বিবেকের প্রতিফলন এবং সামাজিক সম্প্রীতি ও শান্তি রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, কিছু মহল সংবেদনশীল ধর্মীয় বিষয়কে কাজে লাগিয়ে ভয়, ঘৃণা ও অস্থিরতা ছড়ানোর চেষ্টা করছে। এ প্রেক্ষিতে তিনি বাংলাদেশ সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বেসামরিক প্রশাসনকে সহিংসতায় উসকানি দানকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত, দৃঢ় ও নিরপেক্ষ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি সময়মতো ও স্বচ্ছভাবে যাচাইকৃত তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে গুজব প্রতিরোধের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন এবং বলেন, বিচারপ্রক্রিয়ায় বিলম্ব হলে অপরাধীরা আরও উৎসাহ পায় এবং গণতান্ত্রিক ও আইনগত প্রতিষ্ঠানের ওপর জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ণ হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে সহিংসতার নিন্দা ও এ পর্যন্ত হওয়া গ্রেপ্তারকে তিনি স্বাগত জানিয়ে বলেন, এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে কঠোর ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা নেওয়া অপরিহার্য, যাতে স্পষ্ট বার্তা যায় যে জনতার সহিংসতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
বিবৃতির উপসংহারে তিনি বলেন, “জামাআতে ইসলামী হিন্দ, বাংলাদেশের জনগণের পাশে সংহতির সঙ্গে দাঁড়িয়ে আছে এবং আন্তরিকভাবে প্রত্যাশা করে—একটি শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাধানের মাধ্যমে সেখানে গণতান্ত্রিক শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে, আইনের শাসন সুদৃঢ় হবে এবং সকল নাগরিকের নিরাপত্তা, অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।
ধন্যবাদান্তে
মুস্তাফিজুর রহমান
মিডিয়া সেক্রেটারি,
জামাআতে ইসলামী হিন্দ, পশ্চিমবঙ্গ