কর্ণাটকে বাস অগ্নিকাণ্ড: স্বয়ংক্রিয় দরজা বিকল হয়ে যাত্রী আটকা, অনেকের মৃত্যু
কর্ণাটকের চিত্রদুর্গে বৃহস্পতিবার ভোররাতে একটি বেসরকারি বাতানুকূল বাসে আগুন ধরে যায়। বাসটি বেঙ্গালুরু থেকে শিবমোগা যাওয়ার পথে ৪৮ নম্বর জাতীয় সড়কে ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষের পর বিস্ফোরিত হয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত কমপক্ষে নয়জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও অনেকে ঝলসে আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী আদিত্য জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় বাসের ভেতরে যাত্রীরা ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ একটি বিকট শব্দের সঙ্গে বাস ঝাঁকুনি খায় এবং আগুন ধরে যায়। তবে স্বয়ংক্রিয় দরজাটি বিকল হওয়ায় যাত্রীরা বাইরে বের হতে পারেননি। আতঙ্কিত যাত্রীরা বাসের জানলা ভাঙার চেষ্টা করলেও আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় অনেকেই আটকে পড়ে ঝলসে যান।
সচিন নামের আরেক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, বাসটি দ্রুত গতিতে তাদের গাড়িকে ওভারটেক করার পর উল্টো দিক থেকে আসা একটি ট্রাক বাসের জ্বালানি ট্যাঙ্কের পাশে ধাক্কা দেয়, যার ফলে আগুন লাগে। পরে আগুন দ্রুত বাসের পুরো অংশে ছড়িয়ে পড়ে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা রাজস্থানের জয়সলমেরের গত মাসের ভয়াবহ বাস অগ্নিকাণ্ডের স্মৃতি ফেরিয়ে দিয়েছে, যেখানে ২০ জন যাত্রী নিহত হয়েছিলো। ওই ঘটনায় স্বয়ংক্রিয় দরজার বিকলতা যাত্রীদের মৃত্যু বাড়িয়ে দিয়েছিল।
দমকল ও উদ্ধারকারী দল সকালে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। বাসের ভিতর থেকে ঝলসে যাওয়া দেহ উদ্ধার করা হয়, যা এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত ছিল যে, চেনা সম্ভব হচ্ছিল না। দুর্ঘটনার পর থেকে বাস চালক ও খালাসি পলাতক রয়েছেন। তবে ট্রাক চালকের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন এবং নিহতদের পরিবারকে দু’লক্ষ টাকা, আহতদের জন্য ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন। প্রশাসন ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং আহতদের চিকিৎসা চলছে।
ছবি: সংগৃহীত