খামেনেই: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় অচলাবস্থা
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই মঙ্গলবার এক টেলিভিশন ভাষণে ঘোষণা করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনার কোনো ফল আসেনি এবং তা শেষ পর্যন্ত “অচলাবস্থায়” গিয়ে ঠেকেছে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসার প্রশ্নই ওঠে না।
খামেনেই বলেন, আমেরিকা আসলে আলোচনার নামে ইরানের ওপর শর্ত চাপিয়ে দিতে চাইছে। তাঁর ভাষায়, “যুক্তরাষ্ট্র আগেই আলোচনার ফলাফল ঘোষণা করেছে—পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করতে হবে। এটি কোনো আলোচনা নয়, বরং চাপ প্রয়োগ।”
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি চালিয়ে যাবে এবং এ নিয়ে কোনো রকম ছাড় দেওয়া হবে না। তবে তিনি দাবি করেন, ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায়নি এবং করবে না।
খামেনেই সতর্ক করে বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা শুধু ক্ষতি ডেকে আনবে, এমনকি কিছু ক্ষতি অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠবে। চাপের মুখে আলোচনা মানে আত্মসমর্পণ।”
ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া
খামেনেইর বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা আগে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া যাবে না। তাঁর কথায়, “বিশ্বের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাস রফতানিকারী রাষ্ট্রকে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অস্ত্রের মালিক হতে দেওয়া যাবে না।”
ইউরোপের ভূমিকা
ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি—তিন ইউরোপীয় শক্তি ২৮ আগস্ট থেকে ৩০ দিনের মধ্যে জাতিসংঘের পুরোনো নিষেধাজ্ঞা ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তাদের অভিযোগ, ইরান ২০১৫ সালের ভিয়েনা চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করছে। ইউরোপীয়রা ইরানের কাছে তিনটি শর্ত রেখেছে:
নিঃশর্ত ও সরাসরি আলোচনায় ফেরা।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার পূর্ণ প্রবেশাধিকার দেওয়া।
সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের সঠিক হিসাব প্রকাশ।
আইএইএ প্রধানের অবস্থান
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি জানান, তাঁর একটি পরিদর্শক দল ইতিমধ্যে প্রস্তুত আছে, যদি ইরান ও ইউরোপ কোনো সমঝোতায় পৌঁছায়। তিনি বলেন, “কয়েক ঘণ্টা কিংবা কয়েক দিনের মধ্যেই সমাধান খুঁজে পাওয়া যেতে পারে।”
লারিজানির মন্তব্য
ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মহাসচিব আলি লারিজানি বলেন, পশ্চিমা দেশগুলোর দাবি শুধু পারমাণবিক কর্মসূচি নয়, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়েও অযৌক্তিক শর্ত চাপানো হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, “আমরা চুক্তির সব শর্ত মেনেছি, কিন্তু পশ্চিমা শক্তিগুলো প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে।