Tranding

কিম জং উনের অঙ্গীকার: উত্তর কোরিয়াকে বিশ্বের ‘সেরা সমাজতান্ত্রিক স্বর্গে’ পরিণত করব

সিওল | ১০ অক্টোবর ২০২৫: উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে তিনি দেশটিকে বিশ্বের “সেরা সমাজতান্ত্রিক স্বর্গে” পরিণত করবেন। যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন সামরিক হুমকির বিরুদ্ধে দেশের “সংগ্রাম”কে তিনি প্রশংসা করেন এবং জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করেন, যেখানে উপস্থিত ছিলেন চীন ও রাশিয়ার শীর্ষ প্রতিনিধি।

এই ভাষণটি আসে কোরিয়ান ওয়ার্কার্স পার্টির ৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে, যা শুক্রবার উদ্‌যাপিত হচ্ছে। কিমের বক্তৃতা এমন এক সময় এলো যখন তিনি পশ্চিমবিরোধী দেশগুলির সঙ্গে জোট জোরদার করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনায় ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছেন।

'পারমাণবিক যুদ্ধের হুমকি’ ও সামরিক প্রদর্শনী

আজ পিয়ংইয়ং-এ এক বিশাল সামরিক কুচকাওয়াজ হওয়ার কথা, যেখানে কিম জং উন চীন ও রাশিয়ার প্রতিনিধিদের সঙ্গে থেকে নতুন অস্ত্রের প্রদর্শনী দেখবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

কিম বলেন, “আমাদের দল ও সরকার কঠোর নীতির মাধ্যমে শত্রুদের সামরিক আগ্রাসনের জবাব দিচ্ছে। আমরা সাহসী পদক্ষেপের মাধ্যমে যুদ্ধ ও আধিপত্যবিরোধী শক্তিকে আরও শক্তিশালী করছি।”

তিনি আরও বলেন, “আমি এই দেশকে আরও সমৃদ্ধ, সুন্দর এবং বিশ্বের সর্বোত্তম সমাজতান্ত্রিক স্বর্গে রূপান্তর করব।”

চীন ও রাশিয়ার উপস্থিতি

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াং, রাশিয়ার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ, এবং ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক তো লাম। কিম তাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন এবং সম্পর্ক আরও জোরদারের আশ্বাস দেন।

নতুন প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র উন্মোচনের সম্ভাবনা

বিশ্লেষকদের মতে, আজকের সামরিক কুচকাওয়াজে উত্তর কোরিয়া তাদের “নতুন প্রজন্মের” আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হোয়াসং-২০ প্রদর্শন করতে পারে। এই ক্ষেপণাস্ত্র বহুমুখী পারমাণবিক ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম এবং মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে পারে।

২০১৯ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনার ব্যর্থতার পর, কিম পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি আরও ত্বরান্বিত করেন। তবে সম্প্রতি তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের দাবি ত্যাগ করে, তবে আলোচনায় ফিরতে পারেন।

তথ্য অবরোধ ও সামরিক প্রদর্শনীর রহস্য

উত্তর কোরিয়া কঠোর তথ্য অবরোধ বজায় রাখায় দেশটির অভ্যন্তরীণ অবস্থা যাচাই করা কঠিন। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেলে বোঝা যায় কখন তারা সামরিক কুচকাওয়াজ আয়োজন করছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সাধারণত অনুষ্ঠানটি সরাসরি না দেখিয়ে কয়েক ঘণ্টা বা দিন পরে প্রচার করে।

Trusted source for latest breaking news, headlines, and updates from around the world.

© Your Bango Darpan News. All Rights Reserved.