তিউনিসিয়ায় বন্যা-পরবর্তী পরিবেশ পরিষ্কারে ব্যাপক অভিযান, উপকূলবর্তী রাজ্যগুলিতে জোরদার কাজ
তিউনিস: সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যার পর উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে পরিবেশ পরিষ্কার ও পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে একটি বৃহৎ অভিযান শুরু করেছে তিউনিসিয়ার একটি বিশেষায়িত সরকারি সংস্থা। প্রবল বৃষ্টি ও জলোচ্ছ্বাসে দেশটিতে অন্তত পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি, ভূমিধস এবং বসতিপূর্ণ এলাকায় জল ঢোকার ঘটনা ঘটেছে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, তিউনিস, নাবেল, সুসা এবং বেনজার্ত—এই চারটি রাজ্যে মূলত অভিযান চালানো হচ্ছে। এই অঞ্চলগুলিই সাম্প্রতিক বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু আবাসিক এলাকা ও পর্যটনকেন্দ্রে জল ঢুকে পড়ে, নদী ও খাল উপচে পড়ে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়।
উপকূল সুরক্ষা ও ব্যবস্থাপনা সংস্থা স্থানীয় প্রশাসন, মাঠপর্যায়ের কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে এই পরিষ্কার অভিযান পরিচালনা করছে। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দারাও নিজেদের উদ্যোগে রাস্তা থেকে কাদা, আবর্জনা ও আটকে থাকা যানবাহন সরানোর কাজে নেমেছেন। নিকাশি ব্যবস্থা সচল করতেও চলছে জোরদার তৎপরতা।
সপ্তাহজুড়ে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতির ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, সমুদ্রের ঢেউ এবং বন্যার জল অনেক জায়গায় উপকূল পেরিয়ে জনবসতিতে ঢুকে পড়েছে। নাবেল ও বেনজার্ত এলাকায় ভূমিধস এবং একাধিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর মিলেছে।
প্রবল স্রোত সমুদ্রের তলদেশ থেকে আগাছা, প্লাস্টিক বর্জ্য ও নানা সামগ্রী উপকূলে তুলে এনেছে। কোথাও কোথাও মাটির নিচে চাপা থাকা পুরনো নিদর্শনও প্রকাশ্যে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সৃষ্ট উষ্ণায়ন ও সমুদ্রতীর ক্ষয়ের ফলে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলির মধ্যে তিউনিসিয়া সবচেয়ে ঝুঁকির মুখে থাকা দেশগুলির একটি।
আন্তর্জাতিক সংস্থার এক সমীক্ষা অনুযায়ী, তিউনিসিয়ার মোট বালুকাময় সমুদ্রতটের একটি বড় অংশ ইতিমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত। আগামী কয়েক দশকে এই ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক প্রভাব আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।