পাকিস্তানের সামনে ‘শেষ সুযোগ’: সিপিইসিকে আঁকড়ে ধরছে ইসলামাবাদ, জোর দিলেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ
পাকিস্তান ভয়াবহ আর্থিক সঙ্কটের মুখে দাঁড়িয়ে। কোষাগার কার্যত ফাঁকা, বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডারও শূন্যের কোঠায়। এই পরিস্থিতিতে দেশকে বাঁচাতে শেষ ভরসা হিসেবে ‘চায়না পাকিস্তান ইকোনমিক করিডর’ (CPEC)-কেই আঁকড়ে ধরতে চাইছে ইসলামাবাদ।
বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সিপিইসির দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেন। তিনি একে ইসলামাবাদের জন্য ‘শেষ সুযোগ’ বলে উল্লেখ করেছেন। শরিফের ভাষায়, “চীনের দক্ষতা এবং বিনিয়োগ থেকে উপকৃত হওয়ার এটিই শেষ সুযোগ। এখানে ব্যর্থ হলে ইতিহাস ক্ষমা করবে না।”
চীনের বিনিয়োগ ও পাকিস্তানের আশা
২০১৫ সালে শুরু হওয়া সিপিইসি প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল চিনের শিনজিয়াং প্রদেশ থেকে বালোচিস্তানের গ্বদর বন্দর পর্যন্ত একটি বিস্তৃত করিডর তৈরি করা। দ্বিতীয় পর্যায়ে ৮০০ কোটি ডলারের বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বেজিং। কৃষি, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, খনিজ সম্পদ এবং অবকাঠামো উন্নয়নেও অতিরিক্ত বিনিয়োগের আশ্বাস মিলেছে।
চ্যালেঞ্জ ও সংকট
তবে প্রকল্পের অগ্রগতি সহজ নয়। বালোচিস্তান ও খাইবার-পাখতুনখোয়া প্রদেশে স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় একাধিকবার প্রাণ হারিয়েছেন চীনা প্রকৌশলী ও কর্মীরা। পাকিস্তানের পক্ষে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। পাশাপাশি, আমেরিকার সঙ্গে ইসলামাবাদের সামরিক সম্পর্ক নতুন করে ঘনীভূত হওয়ায় চীনের সন্দেহ আরও গভীর হয়েছে।
কৌশলগত গুরুত্ব
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর একমাত্র আশা এখন সিপিইসি। তবে দেরি বা ব্যর্থতা হলে দেশ আরও গভীর সঙ্কটে নিমজ্জিত হবে। শাহবাজ শরিফও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—কাজে গাফিলতি বা বিলম্ব সহ্য করা হবে না।