সম্ভাব্য ইসরায়েলি হামলার আশঙ্কায় লেবানন, যুদ্ধ এড়াতে মিসরের কূটনৈতিক তৎপরতা
ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের আশঙ্কায় লেবাননে নতুন করে উৎকণ্ঠা ছড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে উত্তেজনা প্রশমনে সক্রিয় হয়েছে মিসর। কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, যুদ্ধ এড়াতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মিসর ধারাবাহিক উদ্যোগ নিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে আগামী সপ্তাহে মিসরের প্রধানমন্ত্রী মুস্তাফা মাদবুলি বৈরুত সফরে যাচ্ছেন।
বৈরুতে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের সঙ্গে বৈঠকের পর মিসরের রাষ্ট্রদূত আলা মুসা বলেন, চলমান প্রচেষ্টার মূল লক্ষ্য হলো উত্তেজনা কমানো এবং লেবাননের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ ঠেকানো। তিনি জানান, ধাপে ধাপে আস্থা তৈরির মাধ্যমে জটিল বিষয়গুলো সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিকে কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই ইসরায়েলি পক্ষ থেকে সামরিক হুমকির সুর আরও জোরালো হয়েছে। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি লেবানন সরকার ও দেশটির সেনাবাহিনী হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করতে ব্যর্থ হয়, তবে লেবাননের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক হামলার পরিকল্পনা রয়েছে।
এর পাশাপাশি দক্ষিণ লেবাননে সামরিক তৎপরতাও বাড়িয়েছে ইসরায়েল। সম্প্রতি লিতানি নদীর উত্তরে কয়েকটি এলাকায় হামলা চালানো হয়েছে, যার মধ্যে সীমান্ত থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরের আল-জাহরানি অঞ্চলও রয়েছে। বেসামরিক আলোচনার উদ্যোগ শুরুর পর এই প্রথম ওই এলাকায় হামলার খবর মিলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক উদ্যোগ ও সামরিক উত্তেজনার এই সমান্তরাল পরিস্থিতি লেবাননের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। যুদ্ধ এড়াতে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার ভূমিকা এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।