কম-ক্যালরির ডায়েট: ওজন কমালেও শরীরে আনতে পারে মারাত্মক ক্ষতি
ওজন দ্রুত কমানোর উপায় হিসেবে কম ক্যালরিযুক্ত ডায়েটকে প্রায়ই “স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ” বলে প্রচার করা হয়। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, অত্যধিকভাবে ক্যালরি কমিয়ে দেওয়া শরীরের জন্য উল্টো ক্ষতিকর হতে পারে। এতে বিপাকের হার কমে যায়, পেশী ক্ষয় হয়, হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়, এবং ক্লান্তি ও পুষ্টিহীনতার ঝুঁকি বাড়ে।
“ভেরিওয়েল হেলথ”–এর এক প্রতিবেদনে কম-ক্যালরির ডায়েটের সম্ভাব্য সাতটি ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরা হয়েছে:
১. বিপাকের গতি কমে যায়
ক্যালরি কমালে শরীর কম শক্তি খরচ করতে শুরু করে। ফলে বিপাকের হার ধীর হয়ে যায়। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই প্রভাব অনেক সময় ডায়েট বন্ধ করার পরও দীর্ঘদিন থেকে যায়, এমনকি ওজন আগের অবস্থায় ফিরে গেলেও।
২. অতিরিক্ত ক্লান্তি ও অবসাদ
ক্যালরি শরীরের জ্বালানি। পর্যাপ্ত ক্যালরি না পেলে শক্তি কমে যায়, বিশেষ করে যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন তাদের ক্ষেত্রে এটি আরও বেশি অনুভূত হয়।
৩. হরমোনের ভারসাম্যহীনতা
শরীরের হরমোন তৈরি করতে যথেষ্ট শক্তি ও চর্বি প্রয়োজন। কম ক্যালরির খাদ্যাভ্যাসে টেস্টোস্টেরন, ইস্ট্রোজেন, লুটিনাইজিং হরমোন এবং ফলিকল-স্টিমুলেটিং হরমোনের মাত্রা কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে, মানসিক চাপের হরমোন কর্টিসলের মাত্রা বেড়ে যায়, যা প্রদাহ ও অন্যান্য শারীরিক ঝুঁকি বাড়ায়।
৪. পেশী ক্ষয়
অতিরিক্ত ক্যালরি কমালে শুধু চর্বি নয়, পেশীও ক্ষয় হয়। যথেষ্ট প্রোটিন গ্রহণ ও রেজিস্ট্যান্স ট্রেনিং কিছুটা সহায়তা করতে পারে, কিন্তু অতিরিক্ত সীমিত খাদ্যে পেশী পুনর্গঠন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। পেশী কমলে বিপাকও আরও ধীর হয়।
৫. পুষ্টির ঘাটতি
কম-ক্যালরির ডায়েটে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজের অভাব দেখা দিতে পারে। এতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, হাড়ের স্বাস্থ্য, বিপাক এবং পরিপাকতন্ত্রের কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিপূরক খাবার (সাপ্লিমেন্ট) কিছুটা ঘাটতি পূরণ করলেও, তা প্রাকৃতিক খাবারের সমান উপকার দেয় না।
৬. হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে
অতিরিক্ত ক্যালরি কমালে হাড়ের ঘনত্ব কমে যায়। এর কারণ হলো খাদ্যে শক্তি, ভিটামিন এবং খনিজের অভাব, যা হাড়ের জন্য অপরিহার্য।
৭. চুল পড়া
চুলের বৃদ্ধি নির্ভর করে প্রোটিন, চর্বি, ভিটামিন এ, ডি, ই, বি কমপ্লেক্স, লোহা, দস্তা ও সেলেনিয়ামের মতো পুষ্টির ওপর। ক্যালরির ঘাটতিতে এসব পুষ্টি কমে গেলে চুল দুর্বল হয়ে ভেঙে পড়ে।
উপসংহার:
দ্রুত ওজন কমানোর আশায় ক্যালরি অত্যধিকভাবে সীমিত করলে শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ওজন কমাতে চাইলে পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার, পর্যাপ্ত প্রোটিন ও নিয়মিত ব্যায়ামই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।