মাদাগাস্কার: তরুণদের বিক্ষোভে সরকারের পতন, চরম দমন-পীড়ন ও এক নতুন আন্দোলনের উন্মেষ
মাদাগাস্কারে তরুণ প্রজন্মের ব্যাপক বিক্ষোভে সরকারের পতন ঘটল। বিদ্যুৎ ও পানীয় জল সংকটের বিরুদ্ধে তরুণরা সোচ্চার হয়ে উঠেছিল, এবং সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে গণপ্রতিরোধে নামার ডাক দেয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকা, পানি না থাকার অভাবে আন্দোলন শুরু হয় শান্তিপূর্ণভাবে, যা 'leo délestage' নামে পরিচিত। তবে, দুর্নীতি বিরোধী 'পাইরেট পতাকা' তলে হাজার হাজার মানুষ রাজধানীতে জড়ো হওয়ার পর সরকার কঠোর দমন নীতির মাধ্যমে তাদেরকে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে, কিন্তু তা ব্যর্থ হয়।
২৫ সেপ্টেম্বর, সরকারী দমননীতি চরমে পৌঁছায়, যার ফলস্বরূপ ঘটে প্রাণহানির ঘটনা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে, আন্দোলনকারীরা রাষ্ট্রের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থনা, জবাবদিহি এবং আলোচনার আহ্বান জানায়। একে একে পদত্যাগ করেন বিদ্যুৎমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী এবং শেষমেশ, প্রেসিডেন্ট নিজে।
মাদাগাস্কার, যেখানে ৭৯ শতাংশ মানুষ দরিদ্র, আইএমএফ এবং ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের ঋণে ডুবে রয়েছে, সেখানে বিক্ষোভরত তরুণদের হাতে ছিল স্লোগান – "আমরা দরিদ্র, ক্রুদ্ধ, অসুখী"।
প্রেসিডেন্ট অ্যান্ডি রাজোলিনা, যিনি একজন বিশাল ব্যবসায়ী এবং মিডিয়া মোগুল, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ক্ষমাপ্রার্থনা করে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। এর আগেও, ২০০৯ সালে একই ধরনের দুর্নীতিবিরোধী গণবিক্ষোভে তিনি প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন, কিন্তু ১৬ বছর পর তাঁকেও পদত্যাগ করতে হল।
এত কিছুর পর, মাদাগাস্কারের তরুণদের সংগ্রাম যদি শ্রমিকদের সংগঠনের সঙ্গে একাত্ম হয় এবং পুঁজিবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে একযোগে লড়াই শুরু করে, তবে হয়তো ইতিহাস নতুন মোড় নেবে। নাহলে, গত ১৫ বছরের চক্রবৃত্তি আবারও ঘটতে পারে।