ডিজিটাইজেশনে বড় অসঙ্গতি: হদিশ নেই ২৮ লক্ষ ভোটারের, মৃত শনাক্ত প্রায় ৯ লক্ষ
ভোটার তালিকা হালনাগাদের চলমান ডিজিটাইজেশন প্রক্রিয়ায় সামনে এসেছে বড়সড় অসঙ্গতি। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত যে পরিমাণ ইনিউমারেশন ফর্ম ডিজিটাইজ করা হয়েছে, তার সঙ্গে ২০০২ সালের ভোটার তালিকার তথ্য মিলিয়ে দেখার সময় প্রায় ২৮ লক্ষ ভোটারের রেকর্ড ম্যাচিং করা যায়নি।
এর মধ্যে প্রায় ৯ লক্ষ ভোটারকে মৃত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। বাকি ১৯ লক্ষ ভোটার ‘ডুপ্লিকেট’, ‘শিফটেড’ বা ‘অ্যাবসেন্ট’ চিহ্নে চিহ্নিত হওয়ায় তাঁদের কোনও হদিশ মেলেনি।
ডিজিটাইজ হয়েছে ৭৮.৪২% ফর্ম
বুধবার পর্যন্ত রাজ্যের মোট ৭৮.৪২ শতাংশ ইনিউমারেশন ফর্ম ডিজিটাইজেশন সম্পন্ন হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অবস্থায় খসড়া ভোটার তালিকা থেকে কমপক্ষে ২৮ লক্ষ নাম বাদ পড়া নিশ্চিত, যদিও ডিজিটাইজেশন শেষ হলে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
কমিশনের দাবি, আগামী ৪ ডিসেম্বর পুরো প্রক্রিয়া শেষ হলে চূড়ান্তভাবে জানা যাবে কতজনের নাম মিলিয়ে দেখা সম্ভব হয়নি।
নাম বাদ পড়লে অভিযোগের সুযোগ
যাঁদের নাম খসড়া তালিকা থেকে বাদ যাবে, তাঁদের তালিকা পঞ্চায়েত অফিস, বিডিও দপ্তর এবং জেলা শাসকের কার্যালয়ে টাঙিয়ে দেওয়া হবে। কেউ মনে করলে তাঁর নাম ভুল করে বাদ পড়েছে, তিনি সংশ্লিষ্ট এআরও, ইআরও বা জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে অভিযোগ জানাতে পারবেন।
মৃত ভোটার শনাক্তে আধার তথ্য ব্যবহৃত
মৃতদের চিহ্নিত করতে কমিশন আগে থেকেই আধার ডেটা সংগ্রহ করেছে।
ইউআইডিএআই জানিয়েছে—
৩৪ লক্ষ মৃত ব্যক্তি–র আধার নম্বর কমিশনের হাতে রয়েছে
রাজ্যের ১৩ লক্ষ মানুষের আধার নেই
এ ছাড়া সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন ব্যাংকের তথ্য, এবং বিভিন্ন রাজ্য প্রকল্পের ডাটাও মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।
কলকাতায় উদ্বেগ বেশি
কমিশন সূত্রের মতে—
কলকাতায় ডুপ্লিকেট ও শিফটেড ভোটারের সংখ্যা অন্যান্য জেলার তুলনায় বেশি
শহরে এখনও ৩০% ফর্ম সংগ্রহ করা যায়নি
এর ফলে রাজধানী শহরের অসঙ্গতি আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন কর্তারা।